Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ইঞ্জিনিয়ারদের কড়া আপত্তি উড়িয়ে স্পেশাল ক্লিয়ারেন্স? আনন্দপুরের সাড়ে ৩ একর প্রজেক্ট নিয়ে এবার CP-কে চিঠি ED-র!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুর থানা এলাকায় সাড়ে ৩ একর বহুমূল্য জমির ওপর একটি হাইপ্রোফাইল আবাসন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-র নজিরবিহীন পদক্ষেপ! এই মেগা আবাসন প্রকল্পে বেআইনিভাবে রাস্তা চওড়া করার ছাড়পত্র দিয়ে একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে নিয়মবহির্ভূত সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই আর্থিক অনিয়মের শিকড় খুঁজতে এবার সরাসরি কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে (CP) চিঠি দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিল ইডি (ED)। আর এই চিঠির পরেই কেএমডিএ (KMDA) এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তৎকালীন কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুর্নীতির মূল জট লুকিয়ে রয়েছে আনন্দপুরের ওই সাড়ে ৩ একর জমির সামনের রাস্তা চওড়া করার অনুমোদনের মধ্যে। কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KMDA)-র ইঞ্জিনিয়াররা অন-স্পট পরিদর্শন করে লিখিত রিপোর্টে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ওই নির্দিষ্ট এলাকায় কোনোভাবেই রাস্তা চওড়া করা সম্ভব নয়। ইঞ্জিনিয়ারদের এই কড়া প্রযুক্তিগত আপত্তি এবং নেতিবাচক রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও, কীভাবে এবং কোন অদৃশ্য ক্ষমতাবলে ওই আবাসন প্রকল্পের নকশা ও রাস্তার অনুমোদন দিয়ে দেওয়া হলো, তা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে ইডি। অভিযোগ, রাস্তা চওড়া দেখানোর ফলে ওই আবাসন নির্মাণকারী সংস্থা নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রচুর পরিমাণ বাড়তি এফএআর (FAR – Floor Area Ratio) বা অতিরিক্ত বহুতল নির্মাণের ছাড়পত্র পেয়ে যায়, যা বড়সড় আর্থিক দুর্নীতির সমান।

কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে দেওয়া চিঠিতে ইডি একটি বিশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী (Minutes of the Meeting) উল্লেখ করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ইঞ্জিনিয়ারদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও রাস্তা চওড়া করার বিতর্কিত প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন পুরমন্ত্রী তথা কেএমডিএ (KMDA)-র চেয়ারপার্সন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তৎকালীন প্রধান সচিব (Principal Secretary) ও যুগ্ম সচিব (Joint Secretary) সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।কীভাবে নিয়ম ও আপত্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাস্তার অনুমোদন দিয়ে নির্মাণকারী সংস্থাকে বাড়তি সুবিধে পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং এর নেপথ্যে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তা কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে সুনির্দিষ্টভাবে খতিয়ে দেখতে বলেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।

যেহেতু বিষয়টি সরকারি পদের অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মের সাথে যুক্ত, তাই ইডি-র এই চিঠির পর কলকাতা পুলিশ পুরো বিষয়টি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে খতিয়ে দেখার আইনি প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিগত জমানার একের পর এক দুর্নীতি নিয়ে বর্তমান বিজেপি সরকার যখন কড়া অবস্থান নিচ্ছে, তখন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো হেভিওয়েট নেত্রীর নাম সরাসরি কেএমডিএ-র নথিসহ ইডি-র চিঠিতে চলে আসায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই কেএমডিএ-র তৎকালীন ওই ইঞ্জিনিয়ারদের এবং পুর দফতরের আমলাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

Exit mobile version