প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-এত দিন যা ছিল শুধু গুঞ্জন, এবার তা নিয়েই প্রকাশ্য রাস্তায় ক্ষোভের বিস্ফোরণ! প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুকুন্দপুরের কার্যালয়টি আসলে কী ছিল? জনপ্রতিনিধির অফিস, নাকি বেনিয়ম আর আমোদ-প্রমোদের আখড়া? মুকুন্দপুরের ওই অফিসে স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিজেপি কর্মীদের তল্লাশি ঘিরে যে নজিরবিহীন উত্তেজনা তৈরি হলো, তা এককথায় চোখ কপালে তোলার মতো। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অফিসের ভেতর থেকে যা যা উদ্ধার হয়েছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য।
উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে একটি হলুদ খাতা আর কয়েকটা ডায়েরি ঘিরেই তৈরি হয়েছে মূল বিতর্ক। অভিযোগ, ওই ডায়েরির পাতা ওল্টালেই স্পষ্ট হচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর থেকে শুরু করে পুরসভার সাফাই কর্মী নিয়োগের রেটচার্ট! কার চাকরি কত টাকায় বিক্রি হয়েছে, কার থেকে কত লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রয়েছে সেখানে। খোদ কলকাতায় বসে এই ছিল ‘জনসেবা’? প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় কেনা সরকারি ত্রাণের ধুতি আর শাড়ি থরে থরে সাজানো অফিসের ভেতর। যে ত্রাণ গরিব মানুষের ঘরে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা কাউন্সিলরের অফিসে স্তূপীকৃত করে রাখা হয়েছিল কেন? ভোটের বৈতরণী পার করার জন্য, নাকি কাটমানির কোনো চক্রান্ত? সরব হয়েছে বিজেপি।
টেবিলের ড্রয়ার থেকে মিলেছে একের পর এক জমির দলিল। একজন কাউন্সিলরের অফিসে এত বেনামী সম্পত্তির দলিল কেন এলো? কোন সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে বা কোন সিন্ডিকেটের স্বার্থে এই জমিগুলো রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবথেকে বিতর্কিত অধ্যায়টি উঠে এসেছে অফিসের ভেতরের সাজসজ্জা নিয়ে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অফিসের ভেতরে চলত এলাহী প্রমোদলীলা। চোখ ধাঁধানো মেকআপ রুম, ম্যাসাজ মেশিন আর তার সাথেই উদ্ধার হয়েছে কন্ডোম! একটা সরকারি কার্যালয়কে, জনগণের করের টাকায় চলা অফিসকে কোন স্তরে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এই ঘটনা তারই প্রমাণ বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
বরাবরের মতো এবারও অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁর দাবি, অফিসের চাবি নাকি তাঁর কাছে থাকত না! নিজের অফিসের চাবি কার কাছে থাকে, সেটা নাকি কাউন্সিলর নিজেই জানেন না! আর ত্রাণের কাপড়গুলোকে তিনি ‘ঈদের অনুদান’ বলে দাবি করেছেন। তবে এই সাফাইয়ে চিঁড়ে ভিজছে না মোটেও।
তৃণমূলের নেতারা হয়তো ভুলে গেছেন যে বাংলায় দিন বদলেছে। রাজ্যে এখন আর তাদের সেই চেনা জমানা নেই। পশ্চিমবঙ্গবাসী এখন দেখছেন এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। রাজ্যে এখন ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সরকার। আর এই নতুন প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা—দুর্নীতি বা বেনিয়ম করে পার পাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। আইন নিজের পথেই চলবে এবং এই সমস্ত অপকর্মের শেষ দেখে ছাড়বে নতুন প্রশাসন। সাধারণ মানুষ এখন শুধু এটাই দেখতে চায়, এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগের তদন্ত কত দ্রুত শেষ করে দোষীদের শ্রীঘরে পাঠায় নতুন সরকার।
