প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- রাজনীতির লড়াই যখন ব্যক্তিগত আদর্শ আর সংগ্রামের মিশেলে একাকার হয়ে যায়, তখন সেই লড়াই আর কেবল ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ থাকে না। মেমারি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মানব গুহ-এর নাম ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ দেখা যাচ্ছে। মেমারির ভূমিপুত্রের এই লড়াইয়ের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু তথা বিশিষ্ট সংবাদ ব্যক্তিত্ব শুদ্ধশীল ঘোষ। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বন্ধুর লড়াইকে কুর্ণিশ জানিয়ে তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তা এখন মেমারির অলিতে-গলিতে চর্চার বিষয়।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হতে গিয়ে মানব গুহ এবং শুদ্ধশীল ঘোষ—উভয়কেই একাধিক প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয়েছে বলে তাঁদের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জেরে মানব গুহকে কারাবাস (জেল) পর্যন্ত করতে হয়েছে, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে এক বড় অধ্যায়। অন্যদিকে, শুদ্ধশীল ঘোষকেও বিভিন্ন সময়ে আইনি জটিলতায় ফেলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিভিন্ন মামলায় তাঁকে জর্জরিত করার পাশাপাশি পুলিশ তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ এবং ফোন পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে গিয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টার এই যে অভিযোগ তাঁরা বারবার তুলেছেন, তা সত্ত্বেও এই দুই বন্ধু নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও নড়েননি।
বন্ধু মানব প্রার্থী হতেই শুদ্ধশীল ঘোষ সমাজমাধ্যমে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, “ধন্যবাদ প্রিয় বন্ধু মানব গুহ – এত বড়, এত কঠিন সিদ্ধান্তটা নেওয়ার জন্য। ধন্যবাদ বিজেপি পশ্চিমবঙ্গকে প্রতিবাদের ভাষাকে এইভাবে আইনসভার দরজায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য।” তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী হবে।
আদালতে আইনি লড়াই হোক কিংবা জনমত গঠনের ময়দান—তাঁদের লক্ষ্য বরাবরই এক ছিল বলে দাবি শুদ্ধশীলের। বন্ধুকে আশ্বস্ত করে তিনি লিখেছেন, “বন্ধু, আজ তুমি এক কদম এগিয়ে আরও কঠিন লড়াইয়ের পথ বেছে নিলে এবং তোমার এই লড়াইয়ে আমার পূর্ণ সমর্থন রইল। এই লড়াইয়ে, আমার সমস্ত সমর্থন-শক্তি দিয়ে তোমার পাশে ছিলাম, আছি, থাকব।”
মেমারির এই লড়াইকে শুদ্ধশীল বাবু কেবল একটি নির্বাচন হিসেবে দেখছেন না, বরং একে দেখছেন ‘মেরুদণ্ড সোজা রাখা’র লড়াই হিসেবে। মেমারির শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা—একজন আদ্যন্ত রাষ্ট্রবাদী এবং অকুতোভয় মানুষকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ এসেছে। তাঁর ভাষায়, “চ্যালেঞ্জটা মেমারির মানুষের কাছে – কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ না করা একজন মানুষকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেওয়ার।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লড়াকু প্রার্থী মানব গুহ এবং বারবার প্রতিকূলতার শিকার হওয়া সাংবাদিক শুদ্ধশীল ঘোষের এই যৌথ লড়াই মেমারির নির্বাচনী হাওয়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার, মেমারির আমজনতা এই ‘অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার’ ডাকে কতটা সাড়া দেন এবং ব্যালট বাক্সে এর কী প্রতিফলন ঘটে।
