Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘আঙুল কোন দিকে যাচ্ছে খেয়াল রাখবেন’—শাসক দলের বিধায়কের এই নির্দেশ কি বড় কোনো কারচুপির ব্লুপ্রিন্ট?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের একবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চুঁচুড়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের গোপনীয়তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বুথের ভেতরেই ‘নজরদারি’ চালানোর দাওয়াই দিলেন তিনি। তাঁর এই বিস্ফোরক নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, পরাজয়ের ভয়ে এখন ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে তৃণমূল।

চুঁচুড়ায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত একটি প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখছিলেন বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদার। সেখানে উপস্থিত পোলিং এজেন্টদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “পোলিং এজেন্টরা শুধু খেয়াল রাখবেন আঙুলটা কোন দিকে যাচ্ছে।” তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে, বুথের ভেতরে ভোটাররা যখন ইভিএম-এ বোতাম টিপবেন, তখন এজেন্টরা যেন আড়াল থেকে লক্ষ্য করেন ভোটার কোন প্রতীকে ভোট দিচ্ছেন।

ভারতীয় সংবিধান এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটাধিকার এবং ভোটদানের গোপনীয়তা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। একজন ভোটার কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা বাইরের কারোর জানার অধিকার নেই। এমনকি পোলিং এজেন্টদের নির্দিষ্ট দূরত্বে বসার কথা যাতে তাঁরা ভোটারদের গোপন কক্ষে হস্তক্ষেপ করতে না পারেন। কিন্তু বিধায়কের এই প্রকাশ্য নিদান প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, তৃণমূল স্তর থেকে ভোটারদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।

বিধায়কের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব এবং রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরণের মন্তব্য আসলে সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানোর নামান্তর। যাতে তাঁরা মনে করেন যে তাঁদের ভোটের গোপন তথ্য শাসকদলের হাতে চলে যাবে। বিজেপির দাবি, চুঁচুড়া সহ গোটা হুগলি জেলাতেই তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। সে কারণেই অসিত মজুমদারের মতো নেতারা এখন ‘দাদাগিরি’র মাধ্যমে বুথ দখলের স্বপ্ন দেখছেন।

উল্লেখ্য, অসিত মজুমদার এর আগেও একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য ও কাজের জন্য সংবাদ শিরোনামে এসেছেন। কখনও বিরোধীদের ‘চামড়া গুটিয়ে নেওয়া’র হুমকি, আবার কখনও সরকারি দফতরে ঢুকে ফর্ম ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার ভোটের প্রার্থী তালিকা নিয়ে তাঁর ক্ষোভ এবং পরবর্তীতে দলের প্রার্থীকে সমর্থনের নামে এই ধরণের ‘নজরদারি’র নিদান আসলে বুথস্তরে পেশিশক্তি প্রদর্শনেরই ইঙ্গিত।

বিধায়কের এই ‘আঙুল দাওয়াই’ নিয়ে চুঁচুড়ার সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেও কি তাঁদের ভোট দেওয়ার গোপনীয়তা বজায় থাকবে? নাকি শাসকদলের এজেন্টদের শ্যেন দৃষ্টির সামনেই তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে? নির্বাচন কমিশন এই ‘বড় কিছু’ বলে ফেলা বিধায়কের বিরুদ্ধে কী ধরণের পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন।

Exit mobile version