Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

শুভেন্দুর ‘জিটিএ ফাইলস’ খোলার হুঙ্কার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তখত ছাড়লেন অনীত থাপা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পাহাড়ের রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তন। রাজ্যের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা এবং পাহাড়ের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের পর অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন গোর্খ্যাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA)-এর চিফ এক্সিকিউটিভ অনীত থাপা। আজ, ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই পদত্যাগের ‘টাইমিং’ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলছেন। চব্বিশ ঘণ্টাও কাটেনি, যখন কার্শিয়াং-এর মাটি থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় হুঙ্কার দিয়েছিলেন— ‘জিটিএ ফাইলস’ খোলা হবে! পূর্বতন জমানার শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে জিটিএ-র কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন তহবিলের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের স্ক্যানারে আসতে চলেছে। আর এই কড়া বার্তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অনীত থাপার এই তড়িঘড়ি পদত্যাগ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিজেপি শিবিরের দাবি, তদন্তের মুখে পড়ার ভয় থেকেই এই সিদ্ধান্ত।

পদত্যাগের পর অনীত থাপা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল অবশ্য ‘জনতার রায়ের প্রতি মর্যাদা’ দেওয়ার যুক্তি খাড়া করছেন। অনীত থাপা একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, “পাহাড়ের মানুষ স্থায়ী সমাধানের জন্য বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন, তাই আমি সরে দাঁড়ালাম।” তবে বিজেপি শিবিরের পাল্টা প্রশ্ন, পাহাড়ের মানুষ যখন আগেই বিজেপির দিকে হাত বাড়িয়েছিলেন এবং রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পরও কেন পদ আঁকড়ে বসেছিলেন অনীত? আজ যখন তদন্তের খাঁড়া মাথার ওপর ঝুলছে, ঠিক তখনই কেন ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ’-এর জাগরণ ঘটল? এই নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন তুঙ্গে।

বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিল যে, জিটিএ-কে পাহাড়ের মানুষের উন্নয়নের কাজে না লাগিয়ে পূর্বতন জমানার সুবিধাভোগীদের আখের গোছাতে ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ের যুবকদের বঞ্চিত করে শিক্ষক নিয়োগে যে বড়সড় বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তার তির সরাসরি অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (BGPM)-র দিকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পাহাড়ের তহবিলের একটি টাকারও হিসাব না দিয়ে কেউ রেহাই পাবে না। অন্যদিকে, অনীত থাপা অবশ্য দাবি করেছেন তিনি যেকোনো তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইস্তফা আসলে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির একটি বড় রাজনৈতিক জয়। পাহাড়ের মানুষ পূর্বতন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নেতৃত্বকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, পাহাড়ে এবার নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে।

অনীত থাপার পতনের সাথে সাথেই পাহাড়ে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল গুরুং কিংবা জিএনএলএফ-এর মতো দলগুলি এবার পাহাড়ের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে সক্রিয় হয়ে উঠছে। পাহাড়বাসী এখন স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান (PPS) এবং প্রকৃত উন্নয়ন চান, যা কেন্দ্রের এবং রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন বিজেপি সরকারই দিতে পারে বলে দাবি পদ্ম শিবিরের। জিটিএ-র এই বোর্ডের বিদায় পাহাড়ে বিজেপি এবং তার সহযোগী দলগুলির জমি আরও শক্ত করল।

Exit mobile version