Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

কার ইশারায় তিহাড় যাত্রা? অবশেষে মুখ খুললেন কেষ্ট, আঙুল তুললেন মমতার ঘরের লোকটির দিকেই!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে যে জ্বলন্ত প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছিল, আজ তা প্রকাশ্যে এনে এক মহাবিস্ফোরণ ঘটালেন বীরভূমের একদা ‘বেতাজ বাদশা’ অনুব্রত মণ্ডল। ইডি ও সিবিআই-এর জালে জড়িয়ে তাঁর দীর্ঘ কারাবাস এবং দিল্লির তিহাড় জেলযাত্রার নেপথ্যে আসলে মূল চক্রী কে ছিলেন? এতদিনে সেই রহস্যের পর্দা ফাঁস করলেন স্বয়ং ‘কেষ্ট’। আর তাঁর এই বিস্ফোরক তিরের নিশানা আর কেউ নন, খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

বুধবার কলকাতার গোলপার্কে নবগঠিত সমান্তরাল রাজনৈতিক শক্তি ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। সেখানে পা রাখা মাত্রই সাংবাদিকদের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে রীতিমতো রুদ্ররূপ ধারণ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বুকে চেপে রাখা ক্ষোভ উগরে দিয়ে অনুব্রত সরাসরি দাবি করেন, ইডি ও সিবিআইয়ের মামলার জেরে তাঁর গারদের ওপারে যাওয়ার পেছনে এক ও একমাত্র দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে কেষ্ট প্রশ্ন তোলেন, “আমি জেলে গেলাম কেন? কার জন্য গেলাম? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওঁর জন্যই জেলে গিয়েছি।”

তাঁর এই একটি মন্তব্যেই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। এতদিন পর্যন্ত যে অনুব্রত মণ্ডলকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও স্নেহভাজন বলে মনে করা হতো, জেল থেকে ফেরার পর তাঁর এই শিবির বদল এবং সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর ‘ঘরের লোক’ অভিষেককে কাঠগড়ায় তোলা এক নজিরবিহীন ঘটনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুব্রতর এই বয়ান আগামী দিনে জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে। ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ থেকে পুরোপুরি দূরত্ব বাড়িয়ে এখন তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে বীরভূমের জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ফলে, ২১শে জুলাইয়ের পালটা সমাবেশের আগে অনুব্রতর এই ‘জেলে যাওয়ার আসল কারণ’ ফাঁসের ঘটনা কালীঘাট তৃনমূলের অস্বস্তি যে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Exit mobile version