Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা গড়ার ডাক: হাজরায় শুভেন্দুর মনোনয়ন পর্বে অমিত শাহের হুঙ্কার!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে আজ এক নতুন মাত্রা যোগ হলো। দক্ষিণ কলকাতার হাজরা মোড়ে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রাক্কালে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন, রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা এবং অখণ্ডতা বজায় রাখতে ‘পরিবর্তন’ এখন সময়ের দাবি।

এদিন হাজরার জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ সরাসরি পরিবর্তনের ডাক দেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান যে, পশ্চিমবঙ্গের হারানো গৌরব ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত শক্ত করা প্রয়োজন। শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন হতে হবে। মোদীজির নেতৃত্বে এখানে বিজেপির সরকার তৈরি করতে হবে।” তাঁর মতে, রাজ্যে একটি শক্তিশালী ও জাতীয়তাবাদী সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেই কেবল বাংলার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।

এদিনের সভায় অমিত শাহের ভাষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল অনুপ্রবেশ সমস্যা। দীর্ঘদিনের এই জাতীয় সমস্যাকে সমূলে উৎপাটন করার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তকে সিল করে এ রাজ্য এবং গোটা দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে দেশ থেকে তাড়াতে হবে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা একান্ত প্রয়োজন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আগামী দিনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং প্রশাসনিক কঠোরতায় সীমান্ত এলাকাকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করা হবে, যাতে কোনো বহিরাগত অশুভ শক্তি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে।

শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পর্বকে কেন্দ্র করে হাজরা চত্বরে এদিন যে জনজোয়ার দেখা গিয়েছিল, তাকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শাহের উপস্থিতিতে এই সমাবেশ স্পষ্ট করে দিল যে, আসন্ন নির্বাচনে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত নিরাপত্তাই হতে চলেছে বিজেপির প্রধান হাতিয়ার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বার্তায় একদিকে যেমন কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে তাঁর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তার ভরসা জুগিয়েছে।

সব মিলিয়ে, হাজরার এই ঐতিহাসিক সভা থেকে অমিত শাহ কেবল রাজনৈতিক বার্তা দেননি, বরং অনুপ্রবেশমুক্ত এক নিরাপদ ও শক্তিশালী পশ্চিমবঙ্গ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেছেন। আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে কীভাবে দেশের মাটি থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিতাড়িত করা হবে, সেই লক্ষ্যেই এখন এগোতে চাইছে গেরুয়া শিবির। শাহের এই ‘পরিবর্তন’ এবং ‘অনুদেশ’ বাংলার রাজনীতিতে নতুন কোন মোড় আনে, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version