প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নির্বাচনী প্রচারের পারদ চড়িয়ে রাজ্যের শাসকদলকে সরাসরি নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার পূর্বস্থলীর জনসভা থেকে মতুয়া, নমঃশূদ্র এবং শরণার্থী পরিবারগুলির অধিকার নিয়ে সরব হলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “মতুয়া বা নমঃশূদ্র পরিবারগুলি কারও দয়ায় টিকে নেই, তাঁদের সুরক্ষা দিচ্ছে ভারতের সংবিধান।” সিএএ (CAA) কার্যকর করার মাধ্যমে শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
এদিন পূর্বস্থলীর জনসভায় ভিড়ে ঠাসা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিরোধীরা সিএএ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালেও প্রকৃত অর্থে এটি শরণার্থীদের অধিকার রক্ষার কবচ। তিনি বলেন, “মতুয়া এবং নমঃশূদ্র ভাই-বোনেরা বছরের পর বছর যে লড়াই করেছেন, তার সম্মান দেবে এই সরকার। সিএএ কোনো দয়া নয়, এটি আপনাদের অধিকার। দেশের সংবিধান আপনাদের সুরক্ষিত করেছে এবং বিজেপি সেই সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের পথ প্রশস্ত করেছে।”
শুধুমাত্র শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়াই নয়, এদিন অনুপ্রবেশকারীদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধেও সুর চড়ান মোদী। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে একদল অসাধু মানুষ অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্য করেছেন এবং অবৈধভাবে নথি তৈরি করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যাঁরা অনুপ্রবেশকারীদের সুযোগ করে দিতে জাল নথিপত্র তৈরি করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের হিসাব নেওয়া হবে। দেশের সুরক্ষার সাথে কোনো আপস করা হবে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে মতুয়া এবং নমঃশূদ্র অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে সিএএ বরাবরই একটি বড় ইস্যু। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ‘সংবিধান’ এবং ‘অধিকার’ শব্দগুলি ব্যবহার করে মতুয়া সম্প্রদায়ের মনে আস্থার জায়গা তৈরি করতে চেয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীদের নথি করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি শাসকদলের ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির দিকে আঙুল তুলেছেন, যা হিন্দু ভোটারদের মেরুকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। সিএএ-র মাধ্যমে দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এটি কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং সরকারি স্তরে প্রয়োগের কাজ চলছে।
মোদীর এই বক্তব্য মূলত দক্ষিণ ও মধ্যবঙ্গের উদ্বাস্তু ভোটকে সংহত করার একটি কৌশলী পদক্ষেপ। একদিকে শরণার্থীদের জন্য ‘নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা’ এবং অন্যদিকে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ‘কড়া পদক্ষেপ’—এই দ্বিমুখী কৌশল আসন্ন নির্বাচনে ব্যালট বক্সে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজ্যের শাসকদল এই বক্তব্যের কী পাল্টা দেয়, এখন সেটাই দেখার।
