প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- এতদিন এসআইআরের চাপ ছিলো। আর এবার যে সেই চাপটা রীতিমত সহ্য করতে পারছেন না এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তা দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে গেল। ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসেছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ ফুল বেঞ্চ। আজ তারা দফায় দফায় বৈঠক করেছে। যেখানে বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে কোনো গাফিলতি দেখলে যে বরদাস্ত করা হবে না, সেই ব্যাপারে কড়া বার্তা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। আর এবারের নির্বাচন অন্যভাবে হবে বুঝে গিয়েই অবৈধ ভোটারের নাম যখন বাদ যাচ্ছে এবং যখন কোনোভাবেই আটকানো যাচ্ছে না, তখন কি শেষ পর্যন্ত দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ভয় দেখানোর মরিয়া চেষ্টা শুরু করে দিলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী? আজ তিনি জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশ্যে যে সমস্ত মন্তব্য করলেন, তা সরাসরি হুমকি দেওয়ার শামিল বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।
এই রাজ্যে এসআইআর হওয়ার পর থেকেই রীতিমত নির্বাচন কমিশনের ওপর বিরক্ত তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিয়ত চেষ্টা করেছেন, এসআইআরকে আটকানোর জন্য। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৬৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। আরও ৬০ লক্ষ মানুষের নাম বিবেচনাধীনের পর্যায়ে রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের চিন্তা বাড়বে, এটা বলাই যায়। কারণ এতদিন এই অবৈধ ভোটারদের কাজে লাগিয়েই তৃণমূল সাফল্য পেয়েছে। ফলে এই ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ায় তারা কমিশনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে এবং ক্ষমতায় থাকতে শেষ পর্যন্ত একটা জঘন্য চক্রান্ত এবং ভয় দেখানোর চেষ্টা করে যাবে, সেই ব্যাপারে সকলেই প্রায় নিশ্চিত ছিলেন। কিন্তু রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে বিন্দুমাত্র সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে আজ প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশ্যে মন্তব্য করে বসলেন, যেভাবে “নাম বাদ যাওয়া মানুষের কাছে এনে তাকে ফেলব” বলে মন্তব্য করলেন, তাতে সত্যিই কি একজন প্রশাসনিক প্রধানের কাছ থেকে এই ধরনের মন্তব্য শোভা পায়? তা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।
এদিন এসআইআরের প্রতিবাদে ধর্না মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “মায়ের দর্শন করতে গিয়ে ফসকে পড়ে গিয়েছে একজন। আসলে মায়ের আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত। কারণ মাও খুশি নয়। আপনাকে তুলে এনে নাম বাদ যাওয়া মানুষের কাছে ফেলবো। দিল্লি থেকে পগারপার করব। মানে খুঁজে নিন।” আর এখানেই বিরোধীরা বলছেন, এ তো সরাসরি হুমকি দেওয়া। এরপরেও কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে না? যখন ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তখন এতে কেন এত ছটফটানি লক্ষ্য করা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের? মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে সরাসরি নাম না করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আক্রমণ করছেন, তা সংবিধানকে চরম অপমানের শামিল বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।
