প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানো এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গরিমা ক্ষুণ্ণ করার এক নতুন অধ্যায় তৈরি করল দেশের বিরোধী দলগুলি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের অবাস্তব দাবি তুলে এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) মতো একটি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়াকে কালিমালিপ্ত করতে দিল্লির রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDI) জোট। এই চরম উত্তেজনার আবহেই আজ এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক মোড় তৈরি হলো দেশের রাজনীতিতে। সমস্ত চাপ এবং রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ, শুক্রবার ঠিক রাত ৮টায় ইন্ডি জোটের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে সাক্ষাতের জন্য সময় দিল রাষ্ট্রপতি ভবন। তবে রাত ৮টার এই সময় নির্ধারণকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর এক বিশাল মহানুভবতা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিরোধীরা যতই রাজপথ স্তব্ধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার হুমকি দিক না কেন, মোদী সরকার এবং রাষ্ট্রপতি ভবন কোনো ব্ল্যাকমেইলের কাছে মাথা নত করেনি। বরং সাংবিধানিক রীতিনীতি মেনে এই সময় দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে—গণতন্ত্রে আলোচনার স্থান রয়েছে, কিন্তু নৈরাজ্যের কোনো জায়গা নেই।
আজ বিকেল ৩টে নাগাদ সংবিধান সদনের সেন্ট্রাল হলে একত্রিত হয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে মার্চ করার জিগির তুলেছেন রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গেরা। কিন্তু বিরোধীদের এই ব্ল্যাকমেইলিংয়ের রাজনীতিকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করেছে শাসকদল। বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট দাবি, যখনই দেশে কোনো নির্বাচন এগিয়ে আসে, তখনই ইভিএম (EVM) বা নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কংগ্রেস ও তাদের সহযোগী দলগুলির এক চেনা ও পুরনো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, নির্বাচন কমিশন যখন দেশজুড়ে ভুয়ো ও দ্বৈত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করার জন্য আইনানুগ কাজ করছে, তখন তাকে ‘ভোট চুরি’ বলে দেশজুড়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের নিশ্চিত পরাজয় এবং সাংগঠনিক ব্যর্থতা আগেভাগেই ঢাকতে এখন থেকেই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর দায় চাপানোর এক চূড়ান্ত অসদার্থ চিত্রনাট্য সাজাচ্ছে বিরোধী শিবির।
এই গোটা পর্বে কেন্দ্রীয় সরকারের দূরদর্শিতা এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করছে ওয়াকিবহাল মহল। সস্তা রাজনৈতিক প্রচারের কাছে নতিস্বীকার না করে দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখতে বদ্ধপরিকর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই ৪২ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও বহু বিশিষ্ট আইনি বিশেষজ্ঞ খোলা চিঠি লিখে নির্বাচন কমিশনের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। বিরোধীদের এই আন্দোলনকে তাঁরা সরাসরি “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাত ৮টায় রাষ্ট্রপতি ভবনের ভেতরে কী আলোচনা হয়, সেদিকেই দেশবাসীর নজর। তবে দেশের সাধারণ মানুষের একাংশের বক্তব্য, মহামান্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর অনন্য সাংবিধানিক মর্যাদা, নিরপেক্ষতা এবং অটল সুবিবেচনার জন্য দেশজুড়ে শ্রদ্ধেয়। বিরোধী প্রতিনিধি দল যতই ভিত্তিহীন অভিযোগ বা রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করুক না কেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাঁর দূরদর্শিতা দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখবেন—দেশবাসী এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত।
