Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘বিদ্রোহী’ শিবিরে গেলেও মিলবে না পার, লটারি-লুকোচুরির মাঝে নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তারের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি অর্জুন সিংয়ের!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের পর থেকেই দুর্নীতি ও বেআইনি কাজকর্মের বিরুদ্ধে তদন্তকারীদের তৎপরতা তুঙ্গে। আর্থিক কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে নানাবিধ গুরুতর অপরাধের তদন্তে যখন কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তখনই এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় এল রাজ্য রাজনীতিতে। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর, হঠাৎই তপসিয়ায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী তৃণমূল’ শিবিরের সাংগঠনিক বৈঠকে সশরীরে হাজির হন পানিহাটির বিতর্কিত প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। নিজেকে আড়াল করার বা নতুন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আশ্রয় নেওয়ার এই মরিয়া চেষ্টা নিয়ে এবার অত্যন্ত বিস্ফোরক ও কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যের পরিবহন তথা শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং।

বিতর্কিত ওই নেতার ভোলবদল ও আইনি জট নিয়ে মুখ খুলে মন্ত্রী অর্জুন সিং সাফ জানিয়ে দেন, আইনের হাত থেকে বাঁচার জন্য কোনো বিশেষ শিবিরের ছাতার তলায় আশ্রয় নিলেও শেষরক্ষা হবে না। মন্ত্রীর চাঁছাছোলা হুঁশিয়ারি, “উনি যে সংগঠনেই যান না কেন, বা যে কমিটিতেই থাকুন না কেন, উনি গ্রেপ্তার হবেন।” তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, আইন সম্পূর্ণ নিজের গতিতেই চলবে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ ও তদন্তকারীদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কোটি টাকার লটারি জালিয়াতি মামলা এবং আরজি কর হাসপাতালের ঘটনা সংক্রান্ত সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের পর থেকেই পানিহাটির এই প্রভাবশালী নেতা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থা যখন তাঁর খোঁজ করছিল, ঠিক তখনই শনিবারের বৈঠকে নির্মল ঘোষের আকস্মিক উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেয়। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এবং আইনি জট এড়াতে ঋতব্রত শিবিরের ‘বিদ্রোহী’ তকমাকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন তিনি।

যদিও নির্মল ঘোষের এই উপস্থিতিতে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে খোদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও। নিজেদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে বৈঠক শেষ হতেই তাঁরা নির্মল ঘোষকে ‘অনাহুত’ বলে একপ্রকার ঝেড়ে ফেলেছেন। বিদ্রোহী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের দাবি, পানিহাটির নির্মল ঘোষকে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, বরং নাম বিভ্রাটের কারণে তিনি অযাচিতভাবে বৈঠকে চলে আসেন এবং তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বৈঠক থেকে বেরোনোর পর থেকেই নির্মল ঘোষ আবার লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়েছেন। তবে অর্জুন সিংয়ের এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দিল যে, নতুন প্রশাসন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের আপোষ বা রাজনৈতিক ছাড় দেওয়ার পক্ষপাতী নয়।

Exit mobile version