Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

কাদা ছেঁচে বেরোচ্ছে অস্ত্রের পাহাড়! সন্দেশখালিতে উদ্ধার ‘মিনি অস্ত্রাগার’, শুভেন্দুর চাবুক বার্তার পর চরম অস্বস্তিতে পূর্বতন জমানার কারিগররা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনীতিতে আজকে সবথেকে বড় চাঞ্চল্যকর খবর। সন্দেশখালি! হ্যাঁ, সেই সন্দেশখালি, যা একসময় তৎকালীন রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে বারবার সংবাদ শিরোনামে উঠে আসত। আজ সেই সন্দেশখালির মাটি থেকেই উদ্ধার হলো থরে থরে সাজানো বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র আর জ্যান্ত কার্তুজ! কোনো সাধারণ ডেরা নয়, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে একটি পুকুর ছেঁচে বের করা হলো ১৭-১৮টি মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র আর বিপুল গোলাবারুদ। সাধারণ মানুষের করের টাকায় যেখানে শান্তিতে বাঁচার পরিবেশ তৈরি হওয়ার কথা, সেখানে জলের নিচে কেন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল গোটা একটা মারণাস্ত্রের ভাণ্ডার? এই প্রশ্নই এখন কাঁপিয়ে দিচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক মহলকে। আজ এই বিরাট সাফল্যের পর এক্স (X) হ্যান্ডেলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ (STF)-কে এই সফল অভিযানের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী সাফ মনে করিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে তাঁর সরকার কতটা অবিচল এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।সন্দেশখালির পুকুরে অস্ত্রের হাট।

শনিবার সকাল থেকেই সন্দেশখালির সরবেড়িয়া, কুমরাখালি এবং বাসন্তীর একাধিক সন্দেহভাজন ডেরায় হানা দেয় রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। পুলিশি সূত্রে খবর, একটি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যখন স্থানীয় এক পুকুরে জাল ফেলা হয়, তখন খোদ তদন্তকারী আধিকারিকদেরও চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! জল-কাদা মাখা বস্তা থেকে একের পর এক বেরোতে থাকে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ তাজা কার্তুজ। এখনও পর্যন্ত এই বেআইনি অস্ত্র কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং যোগাযোগের সূত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ পুলিশ প্রশাসনকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি পূর্বতন সিন্ডিকেট ও অপশাসনকে তীব্র নিশানা করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি লিখেছেন:”বছরের পর বছর ধরে পূর্বতন অপশাসনের আমলে এই ধরনের বেআইনি মারণাস্ত্র মজুত করা হয়েছিল সাধারণ মানুষকে সন্ত্রস্ত করতে এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের, বিশেষ করে আমাদের উৎসর্গীকৃত বিজেপি কার্যকর্তাদের ওপর নৃশংস অত্যাচার চালাতে। কিন্তু মনে রাখবেন, সেই অন্ধকারের দিন এখন অতীত। আমাদের সরকার রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিনাশর্তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

আজকে বাংলার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন প্রতিটি মানুষের মনে একটাই বড় প্রশ্ন—এই যে কাদার নিচে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রের পাহাড়, এগুলো কার নির্দেশে এবং কী উদ্দেশ্যে জমা করা হয়েছিল? নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে, নাকি সাধারণ মানুষের মনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার ভয় ধরিয়ে রাখতে? উত্তরটা আজ আর কারও বুঝতে বাকি নেই। যে রাজনৈতিক শক্তি আজ ক্ষমতা হারিয়ে ধুঁকছে, তাদের জমানার পাপের ঘড়া যে কতখানি পূর্ণ ছিল, আজ সন্দেশখালির পুকুরের কাদাই যেন সেই প্রমাণ দিচ্ছে! মুখ্যমন্ত্রী আজ পরিষ্কার হুঁশিয়ারি দিয়ে দিয়েছেন—বাংলার আনাচ-কানাচে লুকিয়ে রাখা প্রতিটি অবৈধ অস্ত্র খুঁজে বের করা হবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আর রাজনৈতিক হিংসার সংস্কৃতিকে এই মাটি থেকে সমূলে উপড়ে ফেলা হবে। আইনের হাত যে কত লম্বা, তা এখন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। শুভেন্দুর জমানায় অপরাধ করে পার পাওয়ার দিন যে শেষ, তা এই ‘অপারেশন ক্লিনআপ’ আরও একবার প্রমাণ করে দিল।

Exit mobile version