প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার মুখ পোড়ানো, কোটি কোটি টাকার কাটমানি এবং ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহারের অভিযোগে অবশেষে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিতে বাধ্য হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা বিগত সরকারের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। গত ১৭ মে মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তের এফআইআর-এর পর, পরপর ৩ বার পুলিশের সমন এড়িয়ে গিয়েছিলেন অরূপ। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতাবদলের পর আইনের লম্বা হাতের কাছে মাথা নত করে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে অবশেষে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে হল এই হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাকে। বিজেপি এবং শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এটি কেবল একটি সাধারণ আর্থিক কেলেঙ্কারি নয়; বরং বিগত তৃণমূল জমানার সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও তোলাবাজি সংস্কৃতির একটি জ্বলন্ত প্রমাণ।
আয়োজকদের অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাস মন্ত্রী থাকাকালীন নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে হাজার হাজার ‘ফ্রি’ কমপ্লিমেন্টারি টিকিট দাবি করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই ভিআইপি পাসগুলির একটি বিশাল অংশ (প্রায় ২২,০০০ টিকিট) তৃণমূলের স্থানীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চড়া দামে কালোবাজারি করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র অধীনে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কেবল জালিয়াতি নয়, বরং জোরপূর্বক টাকা আদায় (Extortion) এবং দাবি না মানলে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো অপরাধমূলক হুমকির (Criminal Intimidation) মারাত্মক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। মেগা ইভেন্টের দিন অরূপ বিশ্বাসের মদতে ভিআইপি গেট দিয়ে হাজার হাজার অবৈধ প্রভাবশালীকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর ফলে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে টিকিট কেনা আসল ফুটবলপ্রেমীরা বসার জায়গা পাননি। স্টেডিয়ামের চরম অব্যবস্থা দেখে লিওনেল মেসি ক্ষুব্ধ হয়ে দ্রুত মাঠ ছাড়েন, যার জেরে ক্ষিপ্ত দর্শকরা স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালায়। এই আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারির নৈতিক দায় নিয়ে অরূপ বিশ্বাসকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছিল।
বিজেপি শিবিরের দাবি, এই মেগা কেলেঙ্কারির দায় যে সম্পূর্ণভাবে অরূপ বিশ্বাসের, তা তাঁর বারবার সমন এড়ানো এবং আদালত থেকে সুরক্ষার খোঁজার চেষ্টা দেখেই স্পষ্ট।বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্ট অরূপ বিশ্বাসকে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিলেও, আদালত তাঁর উপর কড়া শর্ত চাপিয়েছে। অরূপ বিশ্বাস যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, তাই তাঁর পাসপোর্ট তদন্তকারীদের কাছে জমা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি নিজের স্থানীয় থানা এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। পুলিশ ডাকলেই তাঁকে সশরীরে হাজির হতে হবে। এই শর্ত মেনেই আজ তিনি থানায় হাজিরা দেন।
বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট বক্তব্য, অরূপ বিশ্বাস এখানে কেবল একটি ঘুঁটি মাত্র। একজন প্রাক্তন মন্ত্রী একা এত বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্টে ২২,০০০ টিকিট গায়েব বা কোটি কোটি টাকার তোলাবাজি চালাতে পারেন না। এর পেছনে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের এবং ভাইপো-র আশীর্বাদ রয়েছে। শাসক শিবিরের দাবি, আরজি কর থেকে শুরু করে রেশন, শিক্ষক নিয়োগ এবং এবার বিশ্বখ্যাত ফুটবলার মেসির ইভেন্ট—তৃণমূলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দুর্নীতি, অরূপ বিশ্বাসের আজকের এই থানা হাজিরা তারই আরেকটি বড় প্রমাণ। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা এবং আবেগকে যারা এভাবে বুটের তলায় পিষে দিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে জেলের ভাত খাওয়াতে বর্তমান সরকার আইনি লড়াই জারি রাখবে।
