প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আজ (বৃহস্পতিবার) সাতসকালে কলকাতার পূর্ব যাদবপুরে বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা তথা প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাসভবনে একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুষ্কৃতীরা মুখ ঢেকে এসে বাড়ি লক্ষ্য করে মদের বোতল ও ইট ছোঁড়ে, যার ফলে জানলার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। এই ঘটনার পরই সবথেকে বড় চমকটি দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিরকালের কট্টর রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে তিনি সরাসরি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে ফোন করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানান। দিল্লি যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, “আমি বিকাশদার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। আজ কলকাতায় থাকলে ওঁর বাড়ি যেতাম, দিল্লি থেকে ফিরে এসে ওঁর বাড়ি যাব। কোনো দলের ওপর এই ধরনের আক্রমণ আমরা মানব না।” তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে হঠাৎ এই ‘বিকাশদা’ সম্বোধন এবং দরদ উথলে ওঠা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্ষরিক অর্থেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বর্তমান শাসকদল বিজেপি-র স্পষ্ট দাবি—ক্ষমতা হারিয়ে এখন রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচাতে সিপিএম-এর সঙ্গে নির্লজ্জ ‘সেটিং’ ও ভন্ডামির খেলায় মেতেছেন তৃণমূল নেত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দ্বিচারিতাকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে নেটিজেন এবং বিজেপি নেতৃত্ব অতীতের একাধিক ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তুলোধোনা করছেন। রাজনৈতিক মহল ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতার মধ্যগগনে ছিলেন, তখন এই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেই কলকাতা পুরসভার অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে প্রকাশ্য জনসভায় ‘ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি’ দিয়েছিলেন। আজ ক্ষমতা যেতেই সেই শত্রু কীভাবে ‘দাদা’ হয়ে গেলেন, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে একের পর এক মামলায় এই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যই কোর্টে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সরকারের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলতেন, “কিছু উকিল বাবু সকাল-বিকেল শুধু কোর্টকে ভুল বুঝিয়ে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছেন।” আজ সেই আইনজীবীদের ওপর হামলা নিয়ে ওঁর নাটক দেখে সাধারণ মানুষ থুথু ফেলছেন। বছর পাঁচেক আগে যখন বামনেত্রী ঐশী ঘোষের ওপর আক্রমণ হয়েছিল, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। আজ নিজের পায়ের তলার মাটি সরে যেতেই বামেদের কাছে টানতে মমতার এই মরিয়া চেষ্টা আসলে এক চরম রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা।
বিজেপি শিবিরের এক শীর্ষ নেতার কথায়, “বিগত ১৪ বছর ধরে বাংলায় যে তোলাবাজি, বোমাবাজি এবং আইনহীনতার সংস্কৃতি তৃণমূল পুষেছিল, আজ ক্ষমতা বদলের পরেও সেই দুষ্কৃতীরাই ঘুরে বেড়াচ্ছে। উনি নিজে যে পাপের বীজ বপন করেছিলেন, আজ তারই ফল ভুগছেন। এখন দিল্লির জোট টিকিয়ে রাখতে আর ইডি-সিবিআই-এর হাত থেকে বাঁচতে ওনাকে বামেদের পা ধরতে হচ্ছে, এটা বাংলার মানুষ বোঝে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উপনির্বাচনের গণনার ঠিক আগের দিন এবং দিল্লি যাওয়ার ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে মমতার এই ‘বিকাশদা’ কার্ড আসলে ইভিএম-এর ভরাডুবি নিশ্চিত বুঝেই বামেদের ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দিকে টানার এক সস্তা ও মরিয়া চাল ছাড়া আর কিছুই নয়।
