প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালুর প্রথম মাসেই সমস্ত রেকর্ড ভেঙে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করল পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার। গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মোদী সরকারের এই মেগা স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু হওয়ার পর ঠিক এক মাস পূর্ণ হয়েছে। আর এই প্রথম মাসের অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক সাফল্যের নিখুঁত খতিয়ান সামাজিক মাধ্যম ‘X’-এ পোস্ট করে গোটা রাজ্যকে চমকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।সাধারণ মানুষের উন্নত ও দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার কঠোর বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “স্বাস্থ্য প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কোনও মানুষ যাতে স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া অফিশিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্প চালুর প্রথম মাত্র ৩০ দিনেই রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০,০০০-এরও বেশি মানুষ ভরতি হয়ে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা লাভ করেছেন। আর এর জন্য রাজকোষ থেকে ২৮ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সুবিধাভোগীদের প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ বছর ধরে এ রাজ্যে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে থাকার পর, নতুন সরকারের পরিচালনায় প্রথম মাসেই সাধারণ মানুষ এর সুফল সরাসরি পেতে শুরু করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে এই প্রকল্পের দেশজুড়ে চিকিৎসা পাওয়ার বিশেষ সুবিধার (Portability) এক চমকপ্রদ ডেটা পেশ করেছেন। তিনি জানান, প্রথম ৩০ দিনেই: পশ্চিমবঙ্গের ১,১০২ জনেরও বেশি রোগী এ রাজ্যের বাইরে ভারতের বিভিন্ন নামী বড় হাসপাতালে গিয়ে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে ও ক্যাশলেস পদ্ধতিতে উন্নত চিকিৎসা করিয়েছেন। এর পাশাপাশি, জাতীয় স্তরে সেবার অনন্য নজির গড়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন নামী স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রে ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে চিকিৎসা করাতে আসা ১,৮৪৯ জন রোগীকেও সাফল্যের সাথে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার পর রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সাথে যুক্ত সকলস্তরের কর্মীদের কুর্নিশ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, “দিনরাত এক করে নিরলসভাবে কাজ করে চলা আমাদের সকল চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশাসকের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।” সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। প্রথম মাসের এই বিপুল সাফল্যের খতিয়ান প্রমাণ করছে যে, সাধারণ মানুষের ঘরের দোরগোড়ায় বিশ্বমানের চিকিৎসা পৌঁছে দিতে নতুন প্রশাসন সম্পূর্ণ সফল।
