প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
আজ বিতর্কিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস হয়েছে। ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবীরকে তৃণমূল দল থেকে সাসপেন্ড করেছে। তবে প্রথম থেকেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করে এসেছেন, বাইরে এসব সাসপেন্ডের নাটক দেখিয়ে লাভ নেই। পুলিশ দিয়ে হুমায়ুন কবীরকে এই কর্মসূচি করতে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি এটাও বলেছেন যে, মসজিদ হলে তার আপত্তি নেই। কিন্তু বাবরের নামে কেন মসজিদ হবে? আর বাইরে যতই হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তৃণমূল দূরত্ব রেখেছে বলে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হোক না কেন, পুলিশ দিয়ে যেভাবে আজ তার এই কর্মসূচিকে অনুমোদন দেওয়া হলো, তাতে সরাসরি এই কর্মসূচির পেছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও মদত রয়েছে বলেই দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকার।
বেশ কিছুদিন ধরেই মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। তৃণমূল তাকে সাসপেন্ড করলেও, তলায় তলায় যে দুই পক্ষের যোগাযোগ নেই, সেই গ্যারান্টি কে দেবে? তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীও বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, মমতা ব্যানার্জির মুখ আর মুখোশ আলাদা। আর আজ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আরও বড় প্রশ্ন তুলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তার পুলিশ প্রশাসনকে খোঁচা দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, যদি তিনি এই বাবরি মসজিদের বিরোধীতাই করতেন, তাহলে কেন পুলিশ দিয়ে গোটা প্রক্রিয়াকে অনুমোদন দেওয়া হলো?
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “আজ এই বাবরি মসজিদ শিলান্যাসে মমতা ব্যানার্জি পরোক্ষভাবে পুলিশ দিয়ে পালন করলো। অথচ সরস্বতী পুজো করতে গিয়ে যোগমায়া দেবী কলেজের ছাত্রীকে কোর্টে যেতে হয়। আমাদের একটা পুজোর অনুমোদন দেয় না পুলিশ। আমাকে ভবানীপুরে দোল পূর্ণিমার আগের দিন দোলকা দাহন করতে মমতার পুলিশ বাধা দিয়েছে। আমাকে আদালতে যেতে হয়েছে। হিন্দু ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে কোর্টে যেতে হয়। আর হাজার হাজার লোককে জড়ো করে বাবরের নামে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হয়। সেখানে কোনো অনুমোদন লাগে না।” অর্থাৎ যদি এতই বাবরি মসজিদের বিরোধিতা থাকবে, তাহলে কেন এই কর্মসূচিতে পুলিশকে করা অবস্থান নিতে নির্দেশ দিলেন না এই রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী? কেন তিনি পরোক্ষ ভাবে পুলিশকে দিয়ে এই গোটা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করলেন, তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চাপে ফেলে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
