Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে বালিগঞ্জে উদ্ধার টাকার পাহাড়! কমিশনের নাকা চেকিংয়ে ধরা পড়ল লক্ষ লক্ষ নগদ, তোলপাড় কলকাতা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে যখন গোটা রাজ্যে সাজ সাজ রব, ঠিক তখনই খোদ কলকাতার বুকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক শোরগোল। বালিগঞ্জের বিড়লা মন্দিরের কাছে নির্বাচন কমিশনের স্ট্যাটিক সার্ভেইল্যান্স টিম (SST)-এর নাকা চেকিংয়ে ধরা পড়ল নগদ ২৫ লক্ষ টাকা।

কমিশন সূত্রে খবর, ওই এলাকায় বিশেষ নজরদারি চলাকালীন একটি নির্দিষ্ট গাড়িকে থামানো হয়। তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় বান্ডিল বান্ডিল নোট। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা এই বিশাল পরিমাণ অর্থের উৎস বা গন্তব্য নিয়ে কোনো বৈধ নথি (যেমন ব্যাংক রসিদ বা ব্যবসায়িক প্রমাণপত্র) দাখিল করতে পারেননি। কোনো সদুত্তর না মেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগে পুরো টাকাটি তৎক্ষণাৎ বাজেয়াপ্ত করে সরকারি ট্রেজারিতে পাঠানো হয়েছে।

কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যে নির্বাচনী তল্লাশিতে সব মিলিয়ে মোট ২১ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের সময় মূলত তিনটি কারণে এই ধরণের অর্থের আনাগোনা বৃদ্ধি পায়। নির্বাচনে ভোটারদের প্রলোভন দেখানোর উদ্দেশ্যে অবৈধ টাকার ব্যবহার রোখাই কমিশনের মূল লক্ষ্য। বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে অনেক সময় বৈধ মাধ্যম এড়িয়ে হাওলা বা অন্য পথে টাকা সরানোর চেষ্টা করা হয়।নির্বাচনী প্রচারের খরচের ঊর্ধ্বসীমা এড়াতে অনেক সময় অঘোষিত নগদ অর্থ ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়।

আইন অনুযায়ী, নির্বাচনী মরসুমে নির্দিষ্ট সীমার বেশি (সাধারণত ৫০ হাজার টাকা) নগদ বহন করলে তার স্বপক্ষে বৈধ কাগজপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। বালিগঞ্জের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ২৫ লক্ষ টাকার উৎস সন্ধানে আয়কর দপ্তরকেও (Income Tax Department) অবগত করা হতে পারে। উদ্ধার হওয়া এই টাকার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন গোয়েন্দারা।

এই ঘটনায় স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার আর্থিক অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। কলকাতার মত হাই-প্রোফাইল এলাকায় এই নজরদারি আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়বে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Exit mobile version