Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বালুরঘাটে গেরুয়া সুনামি: সুকান্ত-বিদ্যুৎ জুটির দাপটে কি বিসর্জনের পথে অর্পিতা ঘোষের রাজনৈতিক ভাগ্য?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার রাজনীতির ভরকেন্দ্র বালুরঘাট এখন কার্যত আগ্নেয়গিরি। আজ রামনবমী উপলক্ষ্যে বালুরঘাটের রাজপথে যে অভূতপূর্ব জনবিস্ফোরণ দেখা গেল, তা কেবল একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা ছিল না; রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল শাসক দল তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতার এক চূড়ান্ত রাজনৈতিক মহড়া। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা স্থানীয় সাংসদ সুকান্ত মজুমদার এবং বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিদ্যুৎ কুমার রায়ের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই মিছিলে হাঁটা কার্যত তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের নির্বাচনী অঙ্ককে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস এই আসনটি ফিরে পেতে প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষকে প্রার্থী হিসেবে রণক্ষেত্রে নামালেও, মাঠের চিত্র বলছে অন্য কথা। বালুরঘাটের অলিগলিতে কান পাতলে এখন একটাই রব—‘পরিযায়ী নেত্রী’ আর নয়। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, বিপদে-আপদে যাঁকে এলাকায় পাওয়া যায় না, তাঁকে ভোট দিয়ে কী লাভ? আজকের মিছিলে হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বালুরঘাটের মানুষ আর কোনো ‘ইমপোর্টেড’ নেত্রীকে মেনে নিতে নারাজ। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ কুমার রায়ের মতো ‘ভূমিপুত্র’ এবং সুকান্ত মজুমদারের মতো ঘরের ছেলের প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা তৃণমূল শিবিরের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। অর্পিতা ঘোষের প্রচার যেখানে স্তিমিত ও ম্যাড়মেড়ে, সেখানে বিদ্যুৎ রায়ের সমর্থনে এই জনজোয়ার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বালুরঘাট এবার নিজের ঘরের ছেলেকেই বিধানসভায় পাঠাতে মনস্থির করে ফেলেছে।

রামনবমীর এই মিছিল তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সাজানো ভোটব্যাঙ্কে যে বড়সড় ফাটল ধরিয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বালুরঘাট শহরের মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে প্রান্তিক মানুষ—সবার মুখে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি আসলে তৃণমূলের তথাকথিত ‘তোষণ রাজনীতি’ এবং স্থানীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক সপাটে চড়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্পিতা ঘোষের সামনে এখন পাহাড়প্রমাণ দেওয়াল। একদিকে বিজেপির এই সংহত আবেগ, অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ। দলের একাংশই মনে করছে, অর্পিতা ঘোষকে প্রার্থী করে তৃণমূল নেতৃত্ব আসলে বিজেপিকে ‘ওয়াকওভার’ দিয়ে দিয়েছে। রাজপথের এই জনসমুদ্র দেখে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবলও এখন তলানিতে।

সাংসদ সুকান্ত মজুমদার এদিন কার্যত রণংদেহি মেজাজে ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং বিজেপি প্রার্থী বিদ্যুৎ কুমার রায়ের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি—এই দুইয়ের মিশেলে বিজেপি এখন অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো ছুটছে। রামনবমীর মিছিলে সুকান্ত মজুমদার যেভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন, তাতে তৃণমূলের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ফাঁকা বুলি কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে। বিজেপির এই শক্তি প্রদর্শন প্রমাণ করেছে যে, বালুরঘাটে সুকান্ত মজুমদারের দুর্গ ভাঙা অর্পিতা ঘোষের সাধ্যের বাইরে।

আজকের রামনবমীর মিছিলে সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষের রাজপথে নেমে আসা আসলে বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। অর্পিতা ঘোষের সামনে এখন দেওয়াল লিখন স্পষ্ট—বালুরঘাটের মানুষ আর মরসুমি রাজনীতিকদের ওপর ভরসা করতে নারাজ। শুক্রবারের এই মিছিল ছিল ২০২৬-এর লড়াইয়ের ট্রেলার মাত্র। সুকান্ত মজুমদার ও বিদ্যুৎ রায়ের এই যুগলবন্দী বালুরঘাটে যে গেরুয়া বিপ্লব শুরু করেছে, তাতে অর্পিতা ঘোষের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন খাদের কিনারায়। রাজপথের এই ‘রাম-নামের’ প্লাবন শেষে এটাই পরিষ্কার—বালুরঘাটে ঘাসফুলের বিসর্জন এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

Exit mobile version