প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর বামেদের আমলে যারা অত্যাচার করতো, যারা সবথেকে বেশি সেই সময় তৃণমূল কর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছে, তারাই তৃণমূলে এসে বড় নেতা হয়ে গিয়েছেন। আর এই অভিযোগ তৃণমূলের অনেক দুর্দিনের নেতা কর্মীদের রয়েছে। যার ফলে সেই বামপন্থীদের অত্যাচারিত নেতা কর্মীদের তৃণমূলের ভিড় হওয়াতে তৃণমূলের অনেক দুর্দিনের কর্মীরা এখন পেছনের সারিতে চলে গিয়েছেন। অনেকেই দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। অনেকেই অন্য দলে যুক্ত হয়েছেন। অনেকেই বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি দুর্দিনের সঙ্গীদের নিয়ে দল করতেন এবং তাদেরকে প্রাধান্য দিতেন, তাহলে আজকে তৃণমূলের এই দুরাবস্থা হতো না। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর সবথেকে বেশি বামপন্থী নেতাকর্মীরা তৃণমূলে জায়গা পেয়েছে জন্যেই আজকে তাদের অসভ্যতার কারণে তৃণমূলের ভাবমূর্তি ক্রমাগত নষ্ট হচ্ছে। আর এই কারণেই তৃণমূল ২০২৬-এর ক্ষমতা থেকে চলে যাবে। একসময় যে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের কর্মীদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলতো বামপন্থীদের বিরুদ্ধে, এখন সেই তৃণমূলের পক্ষ থেকেই প্রতিনিয়ত বিরোধী নেতা কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। একসময় বামেদের আমলে যারা বিরোধী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যারা তৃণমূল করতো, তাদের বাড়িতে সাদা থান পাঠিয়ে দেওয়া হতো, হুমকি দেওয়া হতো। ভয় দেখানো হতো। আর ভোটের আগে যখন সেই বামপন্থীরাই তৃণমূলে যুক্ত হয়েছে, তখন তারা আবার তৃণমূল সেজে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে সাদা থান পাঠিয়ে তাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে এইরকম একটি ঘটনার খবর সামনে এসেছে। আর সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই বামপন্থীরাই যে তৃণমূলের প্রধান মুখ হয়ে বসে রয়েছেন এবং তারাই যে এখন এই তৃণমূল কংগ্রেসটা পরিচালিত করছেন, সেই বিষয়টি তুলে ধরে রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
একসময় যখন এই রাজ্যে বামপন্থীরা ছিলো, তখন বিরোধীদের হুমকি, হুঁশিয়ারি দেওয়া স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর সেই একই ট্র্যাডিশন চালু হয়েছে। আর এর পেছনে সেই বামপন্থীদের যে সমস্ত নেতা কর্মীরা একসময় তৃণমূলকে হুমকি দিতো, তারা তৃণমূলে যুক্ত হয়েছে জন্যেই এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই সকলে মনে করেন। আর তৃণমূলের যারা দুঃসময়ের সঙ্গী ছিলেন, তারা এখন সেই বামপন্থীদের ভিড়ে অনেকটাই পিছনের সারিতে চলে গিয়েছেন। আর সেই কারণেই যে তৃণমূলের আমলে পশ্চিমবঙ্গের এত দুরাবস্থা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর বামপন্থীরা রাজত্ব চালানোর সময় যেভাবে তৃণমূলের কর্মীদের বাড়িতে সাদা থান পাঠিয়ে দেওয়া হতো, ভয় দেখানো হতো, সেই একই কায়দায় এখন বিজেপি কর্মীদের বামপন্থী থেকে আসা তৃণমূলের কর্মীরা ভয় দেখাচ্ছে বলেই অভিযোগ উঠছে।
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে সাদা থান পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আর সেই ব্যাপারেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা তো বলি, সরকারের মুখের পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু সরকারের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরঞ্চ বামপন্থীরাই এখনও রাজত্ব করছে। বামপন্থীরা এটা চালু করেছিল। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিরোধীদের বাড়িতে সাদা থান পাঠানো, দই পাঠানো, রজনীগন্ধার সাদা মালা, এসব পাঠানো হতো। এটা বামপন্থীদের নিয়ম ছিলো। সেটাই এখন তৃণমূল কংগ্রেস করছে। কারণ ওই লোকগুলোই এখন তৃণমূল কংগ্রেস করে।”
