Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বাংলায় লাগু হচ্ছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর! তৈরি উচ্চপর্যায়ের কমিটি, ২ জুলাই ক্যাবিনেটে পেশ বিল!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বঙ্গে এবার ঐতিহাসিক আইনি সংস্কারের পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্য সরকার। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজ রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, পশ্চিমবঙ্গে অত্যন্ত দ্রুত কার্যকর হতে চলেছে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ বা ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ (UCC)। এই আইন রূপায়ণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের ড্রাফটিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২ জুলাই (২০২৬) রাজ্য মন্ত্রিসভার (Cabinet) বৈঠকে এই প্রস্তাবিত বিলের খসড়া অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, খসড়া কমিটি গঠনের পর আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে তারা প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেবে। এই সময়ের মধ্যে বিলের কোনও ধারা বা বিষয়ে যদি কারও কোনও আপত্তি বা ভিন্ন মতামত থাকে, তবে তা সরাসরি কমিটির কাছে জমা দেওয়া যাবে। জনসাধারণের সমস্ত পরামর্শ খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত বিল তৈরি করবে এই বিশেষ কমিটি।

বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘এক দেশ, এক প্রধান, এক বিধান’ স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উত্তরাখণ্ড, অসম ও গুজরাটের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি যেভাবে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এনেছে, ঠিক সেই পথ অনুসরণ করেই বাংলায় এই বিল আনা হচ্ছে”। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, লিভ-ইন রিলেশনশিপ, উত্তরাধিকার ও দত্তক নেওয়ার মতো সামাজিক বিষয়গুলি এবার সব ধর্মের জন্য একই আইনের আওতায় আসবে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্টীকরণ দিয়েছেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, রাজ্যের আদিবাসী বা তপশিলি উপজাতি (Tribal/ST) সমাজকে এই নতুন দেওয়ানি বিধির আওতা থেকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হচ্ছে। আদিবাসী সমাজের নিজস্ব সংস্কৃতি, প্রাচীন ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিনীতি অক্ষুণ্ন রাখতেই এই বিশেষ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি রক্ষায় শুভেন্দু সরকারের এই তৎপরতা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বাম-কংগ্রেস শিবির এই বিলের বিরোধিতা করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে সমস্ত বিতর্ক ও বিরোধিতাকে উড়িয়ে দিয়ে রাজ্য সরকার আগামী ২ জুলাই মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই বিলটি পাসের জন্য বিধানসভার টেবিলে নিয়ে আসবে।

Exit mobile version