Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বাংলাদেশে ঘরের ভেতর চরম নৃশংসতা! একই হিন্দু পরিবারের ৪ জনকে খুন করে বাথরুমে স্নান করল খুনিরা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলাদেশের রংপুর মহানগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। একটি তালাবন্ধ তিনতলা বাড়ি থেকে একই হিন্দু পরিবারের চার সদস্যের পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা। মৃতেরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজি স্নাতকোত্তর পাস করা মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ওরফে প্রার্থী (২৩/২৬) এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছোট ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী ওরফে আয়ুশ (১২/১৪)। ঘটনার তদন্তে নেমে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিআইডি (CID) এবং গোয়েন্দা শাখা (DB) যৌথ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতেরা হলেন ওই এলাকারই দুই ভাই—মুগ্ধ দাস (২৩) এবং সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ খোলসা করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২০ আগস্ট ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) রাতে। অভিযুক্ত মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের একটি নির্মীয়মাণ ভবন দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠে ‘ইয়াবা’ নামের মারাত্মক মাদক সেবন করছিল। ছাদ থেকে আওয়াজ পেয়ে প্রাক্তন শিক্ষক গণপতিবাবু উপরে যান এবং তাঁদের সেখানে নেশা করতে বাধা দেন।নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে এবং ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে ধৃতেরা সঙ্গে সঙ্গে গণপতিবাবুর কাঁধে থাকা গামছা দিয়ে তাঁর গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে। ছাদেই পড়ে থাকে তাঁর।

ছাদে ধস্তাধস্তির আওয়াজ পেয়ে সিঁড়ি দিয়ে উপরে আসছিলেন স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী। সিঁড়ির মাঝেই তাঁকে কাপড়ের টুকরো দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে দুই খুনি। মায়ের চিৎকারে তাঁর মেয়ে আগামী চক্রবর্তী বাঁচাতে ছুটে এলে তাঁকেও সিঁড়িতেই নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে মারা হয়। এরপর ঘরের ভেতর বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা ছোট ছেলে প্রিয়মকেও গামছা জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে তারা। হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধীদের ঠান্ডা মাথার নৃশংসতা দেখে শিউরে উঠেছে পুলিশ। চারজনকে খুনের পর তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়নি, বরং:খুনের পর অপরাধীরা ওই ঘরেই বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় কাটায়। রান্নাঘর ও ডাইনিং টেবিল থেকে শসা এবং খেজুর নিয়ে আয়েশ করে খায়। এরপর বাথরুমে ঢুকে ধীরেসুস্থে স্নান করে নিজেদের জামাকাপড় পরিষ্কার করে। প্রমাণ লোপাটের জন্য নিহতদের মোবাইল দুটিকে ডিটারজেন্ট পাউডার মেশানো জলে ডুবিয়ে রাখে যাতে আঙুলের ছাপ (Fingerprints) না পাওয়া যায়। ঘটনাটিকে ডাকাতির রূপ দিতে ঘরের সমস্ত আলমারি ও জিনিসপত্র তছনছ করে ছড়িয়ে রাখে। অবশেষে শুক্রবার দুপুরে যখন জুম্মার নামাজের কারণে রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল, তখন তারা বাড়িটিতে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চম্পট দেয়।

গত বৃহস্পতিবারের পর থেকে পরিবারের চারজনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় আত্মীয়রা খোঁজ নিতে শনিবার রাতে ওই বাড়িতে যান। বাড়ি থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হতে দেখে তাঁরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ছাদ, সিঁড়ি এবং খাটের নিচ থেকে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহত শিক্ষক গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

Exit mobile version