প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন মানেই রক্তপাত, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন মানেই সন্ত্রাস। বিভিন্ন রাজ্যে এই সমস্ত বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়। কিন্তু বাংলার যে গতানুগতিক ধারা, তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বেশি দফায় ভোট হওয়ার কারণে বিভিন্ন জায়গায় তাদের লুম্পেন বাহিনীকে পাঠিয়ে দিয়ে বুথ দখল থেকে শুরু করে কারচুপি, বিভিন্ন কাজ করতে অনেকটাই সুবিধে পেয়ে যায়। যার ফলে দফা বাড়লে সবথেকে বেশি তাদের সুবিধে হয় বলেই। এতদিন বিভিন্ন মহল থেকে এই সমস্ত আলোচনা চলছিলো। তবে বাংলার মত রাজ্যে যেখানে ২৯৪ টা বিধানসভা কেন্দ্র, সেখানে কম দফায় কি করে ভোট করা সম্ভব? তা নিয়েও অনেক মহলে চর্চা হয়েছে। আর তার মধ্যেই এবার যে খবর পাওয়া গেল, তাতে জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, সত্যিই কি বাংলায় এবার ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন এক দফায় হতে চলেছে?
ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। আজ শুনানি শেষ হয়ে যাবে। ফলে সেই শুনানির দিনক্ষণ বৃদ্ধি করা হবে কিনা, তা নিয়েও একটা জল্পনা চলছে। আর তার মধ্যেই বাংলার বিধানসভা ভোট নিয়ে বড় খবর পাওয়া গেল। যেখানে ২০২৬ এর বিধানসভা ভোট ১ দফায় করাতে তারা প্রস্তুত বলে জানা গিয়েছে। এমনকি এই ব্যাপারে যদি জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাদের কাছ থেকে কোনো রকম পরামর্শ চায়, তাহলেও তারা সেই এক দফায় ভোট করানোর কথা জানিয়ে দেবে বলেই জানা গিয়েছে। আর সিইও দপ্তরের এই মনোভাবের খবর সামনে আসার পরেই বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
অনেকে বলছেন, এক দফায় ভোট হলে যত পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী দরকার, তা কি মোতায়েন করা সম্ভব হবে? কেননা এর আগে ২০২১ সালে ৮ দফায় ভোট হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছিলো। ফলে এবার যখন এত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন, যখন সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচন করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন, তখন এক দফায় ভোট হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী সব জায়গায় সমান্তরাল ভাবে দেওয়া সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়েও গুঞ্জন চলছে। তবে অনেকে বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আরও একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। হয়ত সেই সমস্ত রাজ্যের নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরেই বাংলাকে ফোকাস করে এক দফাতেই যদি ভোট করে নির্বাচন কমিশন, তাহলে সেই সমস্ত রাজ্যে যে সমস্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার করা হয়েছিল, তাদের সবাইকে বাংলার জন্য নিয়ে আসা হতে পারে। আর তাহলেই এই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব এবং সন্ত্রাস অনেকটাই বন্ধ হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
