প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে বড়সড় মাস্টারস্ট্রোক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গঙ্গারামপুরের জনসভা থেকে রাজ্যের নারীশক্তি, যুবসমাজ এবং কৃষকদের জন্য একগুচ্ছ যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার মহিলাদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষায় এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা রাজ্যের ইতিহাসে আগে কখনো হয়নি।
এদিন জনসভায় শাহী-ঘোষণার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল মহিলাদের সরাসরি আর্থিক সাহায্য। অমিত শাহ জানান, বিজেপি সরকার গড়লে রাজ্যের প্রত্যেকটি উপযুক্ত মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে পাঠানো হবে। বর্তমানে রাজ্যে চালু থাকা আর্থিক প্রকল্পের তুলনায় এটি কয়েক গুণ বেশি প্রভাবশালী হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়ার এই প্রতিশ্রুতি বাংলার মহিলা ভোটারদের মনে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
শুধুমাত্র মাসিক ভাতার ঘোষণা করেই থেমে থাকেননি শাহ। তিনি জানিয়েছেন, প্রসূতি মহিলাদের বিশেষ যত্ন ও পুষ্টির জন্য রাজ্য সরকার ২১ হাজার টাকা করে এককালীন অনুদান দেবে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের মেলবন্ধনে এই প্রকল্প এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে দাবি করা হয়েছে।
মহিলাদের ক্ষমতায়নের লক্ষে শাহ আরও দুটি বড় ঘোষণা করেছেন। সরকারি কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চাকরিতে নির্দিষ্ট হারে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবে বিজেপি সরকার। আগামী ৫ই অগাস্টের পর থেকে রাজ্যের কোনও সরকারি বাসে মহিলাদের আর টিকিট কাটতে হবে না। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা ভোগ করতে পারবেন মায়েরা ও বোনেরা।
অমিত শাহের এই ঘোষণাকে নিছক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখছে না ওয়াকিবহাল মহল। এর নেপথ্যে রয়েছে সুদূরপ্রসারী সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ। সরাসরি ডিবিটি (Direct Benefit Transfer)-র মাধ্যমে টাকা পৌঁছানো মানেই মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা। বাংলার নির্বাচনে মহিলা ভোট বরাবরই নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। শাহের এই ‘মেগা ঘোষণা’ সেই ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামাতে পারে। চাকরিতে সংরক্ষণ এবং বিনামূল্যে যাতায়াত—এই দুই পদক্ষেপ মহিলাদের ঘর থেকে বেরিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার পথে বড় উৎসাহ জোগাবে।
গঙ্গারামপুরের সভা থেকে শুধু মহিলাই নন, যুবক এবং কৃষকদের জন্যও বিজেপির উন্নয়নমূলক রূপরেখা তুলে ধরেন শাহ। তাঁর কথায়, “বিজেপি যা বলে, তা করে দেখায়।” এখন দেখার, শাহী-ঘোষণার এই ঢেউ আগামী দিনে বাংলার রাজনীতির সমীকরণ কতটা বদলে দেয়।
