Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বাংলার মাটি থেকে শাহের হুঙ্কার! রামমন্দির রুখতে ৫৫০ বছরের ‘গোপন’ চক্রান্ত ফাঁস?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বাংলার তপ্ত রাজনৈতিক ময়দানে দাঁড়িয়ে এক বিস্ফোরক বয়ান দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর নিশানায় সরাসরি ছিল কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির মত বিরোধী দলগুলো। শাহের দাবি, কয়েক দশক নয়, বরং ৫৫০ বছর ধরে রামলালাকে ‘তাঁবুতে’ বন্দি করে রাখার পেছনে ছিল বিরোধীদের সুপরিকল্পিত অনীহা। বাংলার জনসভা থেকে শাহের এই আক্রমণ এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।

অমিত শাহ তাঁর ভাষণে ইতিহাসের পাতা উল্টে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, রামমন্দির নির্মাণে বাধা কেবল আধুনিক যুগের নয়। ব্রিটিশ শাসনকাল থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পরবর্তী কয়েক দশক পর্যন্ত এক নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই ইস্যুটিকে ঝুলিয়ে রেখেছিল। তাঁর কথায়, “ব্রিটিশদের থেকে শুরু করে কংগ্রেস— সকলে রাম মন্দিরের বিরোধিতা করেছিল।” শাহ সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস এবং ডিএমকে-র মতো দলগুলোকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন রামলালাকে দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে থাকতে হয়েছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে শাহের এই বক্তব্যের বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। এ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘকাল ধরে রামমন্দির ইস্যুতে বিজেপির সমালোচনা করে আসছে। শাহ আজ সেই বিরোধিতার পাল্টা জবাব দিলেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ৫৫০ বছর ধরে যে জট ছাড়ানো সম্ভব হয়নি, তা ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদীকে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আনার ফলেই সম্ভব হয়েছে। মোদী সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই আজ অযোধ্যায় রামমন্দির বাস্তবে রূপ পেয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অমিত শাহ এখানে ‘আস্থা’ এবং ‘উন্নয়ন’—এই দুই তাস একসাথে খেলেছেন। একদিকে তিনি যেমন হিন্দুদের দীর্ঘদিনের ভাবাবেগকে উসকে দিয়েছেন, অন্যদিকে ২০১৯-এর জনাদেশ যে কতটা ফলপ্রসূ ছিল, তা-ও প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে বাংলার ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে তাঁর এই বার্তা স্পষ্ট— যারা রামলালার মন্দিরে বাধা দিয়েছিল, তারা কি আদৌ জনগণের আশীর্বাদ পাওয়ার যোগ্য?

ভাষণের শেষে শাহ স্পষ্ট করেন, ২০১৯ সালে ভারতবাসী নরেন্দ্র মোদীকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে জিতিয়েছিলেন বলেই আজ অযোধ্যায় রামলালা তাঁর স্বমহিমায় বিরাজমান। এটি কেবল একটি মন্দিরের জয় নয়, বরং কয়েক শতাব্দীর বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক বিজয়। শাহের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ কি বাংলার ভোটের মেরুকরণে নতুন মোড় আনবে? উত্তর দেবে সময়। তবে আপাতত শাহের এই ‘৫৫০ বছরের বঞ্চনার’ তত্ত্বে ব্যাকফুটে বিরোধী শিবির।

Exit mobile version