Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বাংলার রাজনীতিতে মহাপ্রলয়! পানিহাটির সভা থেকে মমতার এমন চরম ডাক, যা আগে কেউ শোনেনি!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর মহাযুদ্ধের দামামা সজোরে বেজে গিয়েছে। আর সেই যুদ্ধের উত্তপ্ত রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে গতকাল পানিহাটির সভা থেকে এক নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী জনসভা হলেও, তাঁর প্রতিটি শব্দে ছিল এক তীব্র দহন এবং প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার চূড়ান্ত সংকল্প। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার সাম্প্রতিক ইতিহাসে কোনো জনসভা থেকে ভোটারদের প্রতি এমন ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন’-এর ডাক আগে কখনও শোনা যায়নি।”

জনসভার শুরু থেকেই চরম মেজাজে ছিলেন নেত্রী। বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “মানুষ কী খাবে, তুমি ঠিক করবে? আমরা দুর্গা, লক্ষ্মী, কালীপুজো করি। আপনাদের চিঁড়ে-দইয়ের মেলা হয়। ছটপুজোয় ঘাট সাজিয়ে দিই। বড়দিনেও সাজাই।” বাংলার মিশ্র সংস্কৃতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বিভাজনের রাজনীতি এ রাজ্যে বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর এই উক্তি কার্যত গেরুয়া শিবিরের ‘খাদ্য ও ধর্ম’ রাজনীতির মূলে কুঠারাঘাত বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “এরা বাংলাকে টার্গেট করেছে। যাদের নিয়ে এসেছেন, রোজ চমকাচ্ছে। এত কিসের অহঙ্কার? দুরাচারী, স্বৈরাচারী। এদের কোনও ক্ষমা নেই।” রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, কার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এই ‘ক্ষমা নেই’ শব্দটি ব্যবহার করলেন? এই রহস্যময় বার্তাটিই এখন নেটপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, এবার লড়াই হবে সমানে সমানে।

বক্তব্যের সবথেকে চাঞ্চল্যকর অংশটি ছিল ভোটারদের প্রতি তাঁর সরাসরি আবেদন, যা একপ্রকার ‘ফরমান’ হিসেবেই দেখছেন বিরোধীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন খোলাখুলি বলেন, “যদি রক্ষা করতে হয় বাংলা, আগে অন্য কোনও পার্টিকে ভোট দিয়েও থাকলে এ বার আর দেবেন না। অন্য পার্টি জিতবে না। মাঝখান থেকে বিজেপি যাতে জিতে না যায়, তা-ই করুন।” তিনি আরও একধাপ এগিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেন, “বিজেপি যাতে একটি আসনেও না জেতে, দেখবেন। বাংলার স্বার্থে।”

সাধারণত রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের ভোট দেওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে সরাসরি অন্য বিরোধী দলগুলোকে ভোট না দেওয়ার আর্জি জানিয়ে বিজেপিকে ‘শূন্য’ করার ডাক দিয়েছেন। এটি একদিকে যেমন বিজেপি বিরোধী ভোটকে একজোট করার কৌশল, অন্যদিকে তা বিরোধী শিবিরের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ভাঙন বা মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পানিহাটির মাঠ থেকে দেওয়া এই ডাক কি উত্তর ২৪ পরগনা ছাড়িয়ে গোটা বাংলার নির্বাচনী সমীকরণ রাতারাতি বদলে দেবে? রাজ্য রাজনীতির অন্দরে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে—মমতার এই ‘চরম ডাক’ কি শেষ পর্যন্ত বিজেপির রথ থামাতে পারবে? নাকি পালটা কোনো বিধ্বংসী কৌশল নেবে গেরুয়া শিবির? এই লড়াই এখন কোন ভয়াবহ দিকে মোড় নেয়, তার দিকেই উৎকণ্ঠার সাথে তাকিয়ে আছে গোটা রাজ্য।

Exit mobile version