প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার মসনদ কার দখলে যাবে, তা নিয়ে যখন লড়াই তুঙ্গে, ঠিক তখনই ভোটের মুখে রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র— ভবানীপুর এবং বরাহনগরে ছড়িয়ে পড়ল তীব্র উত্তেজনা। সোমবার গভীর রাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পরেই এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয় এবং রাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয়।
অন্যদিকে, বরাহনগরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির একটি নির্বাচনী সভা শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বিজেপি কর্মীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, বন্দুকের বাঁট দিয়ে কর্মীদের আঘাত করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ রাতেই বরাহনগর থানার সামনে অনুগামীদের নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
গতকালই দুর্গাপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিশাল মেগা রোড শোর পর রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছিল। শাহের দাবি ছিল, “এবার বাংলায় বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়বে।” এই দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার সংলগ্ন এলাকায় এই হিংসার ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, এই হামলার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে কড়া অভিযোগ জানানো হচ্ছে। দলের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, “শাসক দল হারের ভয়ে সন্ত্রাস ছড়িয়ে ভোটারদের ভয় দেখাতে চাইছে। কিন্তু মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।” পাল্টা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে বিজেপির ‘ভিতরের গোলমাল’ বলে দাবি করা হয়েছে।
ভবানীপুর ও বরাহনগরে এই টানটান উত্তেজনার জেরে সাধারণ মানুষের মনেও আতঙ্ক দানা বেঁধেছে। ২৩ ও ২৯ শে এপ্রিলের ভোটের আগে শান্তি বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত আধা-সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছে বলে সূত্রের খবর।
