প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি, আইন শৃঙ্খলার অবনতি, এই সমস্ত বিষয় যেমন চিন্তার কারণ, ঠিক তেমনই একটি বড় চিন্তার কারণ অনুপ্রবেশ ইস্যু। এই অনুপ্রবেশ কারীদের জন্যই বাংলার যে ভয়ংকর অবনতি হচ্ছে এবং বাংলার ডেমোগ্রাফির পরিবর্তন হচ্ছে, তা মাঝেমধ্যেই উল্লেখ করেন বিজেপি নেতারা। এমনকি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও এই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উস্মা প্রকাশ করা হয়েছে। আর যখন এসআইআরের মধ্যে দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে, তখন কিছু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। যারা ভোটব্যাংক হিসেবে এতদিন অনুপ্রবেশকারীদের ব্যবহার করতেন, তারা এখন আইন হাতে তুলে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। আর এই পরিস্থিতিতে যারা অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এমনকি বাংলার জন্য এই অনুপ্রবেশ যে বড় চিন্তার বিষয়, সেই কথা উল্লেখ করে বিজেপি সরকারে এলে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করার বার্তা দিলেন তিনি।
এই রাজ্যের বুকে বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে অবৈধ ভোটারদের চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। তবে বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষোভ হতেও দেখা যাচ্ছে। আর যারা বিক্ষোভ করছেন, তারা যে অবৈধ অনুপ্রবেশ কারীদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং তাদের নাম বাদ যাওয়ার কারণেই যে আতঙ্কিত হয়ে এই সমস্ত আইন হাতে তুলে নেওয়ার মত কাজ করছেন, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত বিরোধীরা। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যেই দাবি করা হয় যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর আজ সেই কথাই উল্লেখ করে অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে বাংলার বর্তমান তৃণমূল সরকারকে রীতিমত কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার দাবি, তৃণমূলের সিন্ডিকেট এই অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার করতে সব রকম চেষ্টা করছে।
এদিন মালদহের সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “বাংলার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অনুপ্রবেশ। দুনিয়ার সমৃদ্ধ দেশ, যেখানে টাকার অভাব নেই, তারাও অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দিচ্ছে। ওদের বাইরে পাঠানো উচিত। কিন্তু তৃণমূল সরকার থাকতে এটা কি সম্ভব? অনুপ্রবেশকারীদের কে বার করবে? তৃণমূলের সিন্ডিকেট বহু বছর ধরে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার করার খেলা করছে। ওরা গরীবদের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে। যুবকদের কাজ ছিনিয়ে নিচ্ছে। বোনেদের ওপর অত্যাচার করছে। জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ভাষার ফারাক আসছে। মালদহ, মুর্শিদাবাদের অনেক জায়গাতেই হিংসা বাড়ছে। অনুপ্রবেশকারীদের জোট ভাঙতে হবে। বিজেপি সরকার হলে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ হবে।”
