প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বঙ্গ রাজনীতিতে পারদ চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ এক নির্বাচনী জনসভা থেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি বঞ্চনার অভিযোগ তুলে রীতিমত তোপ দাগলেন তিনি। মোদীর নিশানায় ছিল মূলত ‘পিএম বিশ্বকর্মা’ এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি, যা তৃণমূল সরকার বাংলায় কার্যকর করতে দেয়নি বলে দাবি প্রধানমন্ত্রীর।
এদিনের সভায় মোদী বলেন, ‘‘পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের অধীনে দেশের শিল্পী ও কারিগরদের কেন্দ্রীয় সরকার উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দেয়। এই প্রকল্পের সুফল প্রতিবেশী রাজ্য অসম এবং বিহারের মানুষ দু’হাত ভরে নিচ্ছেন। অসমে প্রায় এক লক্ষ মানুষ এই প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, বিহারেও সংখ্যাটা বিপুল। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রত্যেকে ১৫ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্যও পেয়েছেন সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, আপনাদের এখানকার সরকার (তৃণমূল) এই প্রকল্প বাংলায় ঢুকতেই দেয়নি।”
প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “তৃণমূলের এই জেদ আপনাদের অনেক বড় ক্ষতি করে দিয়েছে। বাংলার দক্ষ শিল্পীরা আজ আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে।”
শুধু বিশ্বকর্মা প্রকল্পই নয়, মোদীর নিশানায় ছিল বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ও। তাঁর দাবি, গরিব মানুষের ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ কেড়ে নিয়েছে রাজ্য সরকার। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “আয়ুষ্মান ভারত যোজনাতেও বাধা দিয়েছে তৃণমূল। ফলে বাংলার বহু মানুষ ভিন রাজ্যে চিকিৎসা করাতে গিয়েও এই কার্ড ব্যবহার করতে পারছেন না। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে গরিবের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলছে শাসকদল।”
এদিন মোদীর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রয়োজনীয়তা। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র টাকা পাঠাতে চাইলেও রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। বিশাল জনপ্লাবনকে সাক্ষী রেখে মোদী প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সমস্ত বাধা দূর করে সরাসরি মানুষের হাতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া আক্রমণের পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, মোদীর এই তথ্য বাংলার মানুষের চোখ খুলে দেবে। অন্যদিকে, তৃণমূল এই অভিযোগের কী পাল্টা জবাব দেয়, এখন সেটাই দেখার।
