Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বাংলার ভোটব্যাঙ্কে কি তবে বড় থাবা? পর্দার আড়ালে থাকা চাঞ্চল্যকর তথ্য এবার প্রকাশ্যে!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পশ্চিমবঙ্গের গত কয়েক দশকের নির্বাচনী ইতিহাসে কি তবে এক বিশাল রদবদল ঘটতে চলেছে? পর্দার আড়ালে থাকা এমন এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান এবার প্রকাশ্যে এসেছে, যা দেখে রীতিমতো চোখ কপালে ওঠার জোগাড় রাজনৈতিক মহলের। রাজ্যে ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় যে তথ্য সামনে আসছে, তাতে কার্যত তোলপাড় শুরু হয়েছে প্রশাসনের অন্দরে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত এই রাজ্যে নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। কিন্তু এরপরই শুরু হয় কমিশনের সেই বিশেষ অভিযান। আর তাতেই দেখা যাচ্ছে এক অভাবনীয় দৃশ্য। গত ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় সেই সংখ্যা একধাক্কায় কমে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০-এ। অর্থাৎ, প্রাথমিক পর্যায়েই প্রায় ৫৮ লক্ষের বেশি নাম তালিকা থেকে উধাও!সবচেয়ে বড় রহস্য দানা বেঁধেছে বর্তমানে চলমান ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারবিভাগীয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে। প্রায় ৭০৫ জন জুডিশিয়াল অফিসার বর্তমানে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নথিপত্র আতসকাঁচের নিচে রেখে পরীক্ষা করছেন।

বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের মধ্যে যদি অন্তত ৪০-৪৫ শতাংশ মানুষ সঠিক নথির প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন, তবে সরাসরি বাদ যাওয়া ৬৩ লক্ষ ভোটারের সাথে এই সংখ্যা যোগ করলে মোট বাতিলের অংক ৯০ লক্ষ বা তারও বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে! কমিশন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, মূলত চারটি গভীর কারণে এই শুদ্ধিকরণ চলছে। তালিকায় দীর্ঘকাল ধরে টিকে থাকা প্রায় ২৪.১৬ লক্ষ মৃত ব্যক্তির নাম। ঠিকানা বদলে ফেলা বা দীর্ঘকাল অনুপস্থিত থাকা ৩২.৬৫ লক্ষ ভোটার। সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হলো, যাদের নথিপত্রের সাথে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার কোনও যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একই ব্যক্তির একাধিক জায়গায় নাম থাকা প্রায় ১.৩৮ লক্ষ এন্ট্রি।

জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার মানুষেরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিলেন যে, বাংলার ভোটার তালিকায় এমন কিছু ‘অদৃশ্য হাত’ রয়েছে যা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই ৯০ লক্ষ বা তার কাছাকাছি নাম যদি শেষ পর্যন্ত তালিকা থেকে মুছে যায়, তবে কি রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রই বদলে যাবে?কারা এই বিশাল সংখ্যক মানুষ যাদের নথি মিলছে না? কেনই বা এতদিন এই বিপুল পরিমাণ নাম ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছিল? এই প্রশ্নগুলোই এখন সাধারণ মানুষের মনে তীব্র কৌতুহল আর সাসপেন্সের জন্ম দিচ্ছে। আপাতত সবার নজর কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে, কারণ এই এক পদক্ষেপে বাংলার আগামী দিনের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে।

Exit mobile version