প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনী প্রচারের ময়দান থেকে সোজা সিকিমের কনকনে ঠান্ডায়। তবে গ্যাংটকে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যা করলেন, তা দেখে রীতিমত তাজ্জব রাজনৈতিক মহল। মঙ্গলবার সকালে গ্যাংটকের রাজপথে বা কোনো গাম্ভীর্যপূর্ণ সভায় নয়, প্রধানমন্ত্রীকে পাওয়া গেল ফুটবল মাঠে, একদম খেলোয়াড়ের মেজাজে।
মাঠে নেমে তরুণদের ড্রিবলিং শেখালেন মোদী।
সকালবেলা গ্যাংটকের মনোরম পরিবেশে স্থানীয় একদল তরুণ-তরুণীর সঙ্গে ফুটবল খেলায় মেতে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। পরনে নীল স্পোর্টস জ্যাকেট, পায়ে ফুটবল—প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে দেখে পথচলতি সাধারণ মানুষও থমকে দাঁড়ান। শুধু খেলা নয়, তরুণ ফুটবলারদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আড্ডাও দেন তিনি। পরে এক্স হ্যান্ডলে সেই মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “গ্যাংটকের সুন্দর সকালে তরুণ বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলার আনন্দই আলাদা।”
মোদীর এই পাহাড় সফর নিছকই ফুটবল খেলার জন্য নয়। সিকিমের রাজ্য গঠনের ৫০ বছর (গোল্ডেন জুবিলি) উদযাপন উপলক্ষে তিনি পাহাড়ে পা রেখেছেন। এদিন তিনি সিকিমের জন্য ৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক যোগাযোগ, স্বাস্থ্য এবং পর্যটন খাতের একাধিক বড় প্রকল্প। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় ‘খেলা হবে’ স্লোগান যখন তুঙ্গে, তখন সিকিমে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফুটবল খেলা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘ফিট ইন্ডিয়া’র বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি এক গভীর রাজনৈতিক বার্তাও দিতে চেয়েছেন। গতকাল রাতে গ্যাংটকে পৌঁছানোর পর থেকেই শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা। কিন্তু তার মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর রোড-শোতে যে পরিমাণ ভিড় হয়েছিল, তা সিকিমের ইতিহাসে বিরল বলে দাবি করছে স্থানীয় প্রশাসন।
আজ বিকেলে সিকিমের ৫০তম রাজ্য দিবস উদযাপনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। গ্যাংটকের স্বর্ণজয়ন্তী মৈত্রী মঞ্জরী পার্কে একটি বিশ্বমানের অর্কিড এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারের উদ্বোধন করবেন তিনি।
