প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভরদুপুরে তীব্র যানজটে আটকে থমকে গেল বিধায়কের গাড়ি। চারধারে তখন সাধারণ মানুষ আর স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের চরম নাকাল অবস্থা। গাড়ি থেকে নেমেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা। ঘটনাস্থল থেকেই সরাসরি ফোন লাগালেন জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্তাকে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি এই জট না কাটে, তবে ২৫ ঘণ্টার মাথায় নিজেই কোদাল হাতে রাস্তায় নামবেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়া শহরের স্কুলডাঙা মোড়ে। এই এলাকায় একাধিক বড় বড় স্কুল এবং কলেজ রয়েছে। পাশেই রয়েছে একটি মাজার। অভিযোগ, এই ব্যস্ততম এলাকার মূল রাস্তার একাংশ গায়ের জোরে দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ক্লাব ঘর। শুধু তাই নয়, ফুটপাত জুড়ে বসেছে একের পর এক বেআইনি দোকানপাট। এমনিতে সংকীর্ণ রাস্তা, তার ওপর এই জবরদখলের জেরে প্রতিদিন ওই এলাকায় তৈরি হয় নরকগুলজার পরিস্থিতি।
রবিবার এই স্কুলডাঙা এলাকা দিয়েই পার হচ্ছিল বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানার গাড়ি। কিন্তু বেআইনি ক্লাব ঘরের জেরে তৈরি হওয়া যানজটে আটকে পড়েন তিনি। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের এই দুর্ভোগ দেখে ক্ষুব্ধ বিধায়ক গাড়ি থেকে নেমে সোজা জেলাশাসক (DM)-কে ফোন করেন। ফোনেই তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের রাস্তা এভাবে আটকে রাখা যাবে না। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বেআইনি ক্লাব ঘর এবং রাস্তার ওপর থাকা দোকানপাট গুঁড়িয়ে দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে হবে।
প্রশাসনকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি এক নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিধায়ক। তিনি সাফ জানান, “যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা প্রশাসন এই রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত না করে, তবে ২৫ ঘণ্টার মাথায় আমি নিজে কোদাল এবং গাড়ি নিয়ে এসে এই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেব।” বিধায়কের এই রুদ্রমূর্তি দেখে তড়িঘড়ি দোকান গোছাতে শুরু করেছেন ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও।
বাঁকুড়া শহরের এই দীর্ঘদিনের পুরোনো জবরদখল সমস্যা নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন বাসিন্দারাও। বিধায়কের এই আচমকা ‘অ্যাকশন’ দেখে যেমন শোরগোল পড়েছে জেলা জুড়ে, তেমনই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন নিত্যযাত্রীরা। এখন দেখার, বিধায়কের বেঁধে দেওয়া এই ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইনের পর জেলা প্রশাসন নিজে থেকে এই ক্লাব ঘর ভাঙতে বুলেট চালায়, নাকি বিধায়ককে নিজেই কোদাল হাতে নামতে হয়।
