প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুরে চরম উত্তেজনার মাঝে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত গণপিটুনির ঘটনায় বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশি তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া মৃত অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আজ এক মানবিক সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। শনিবার সূর্যপুরে নিহতের বাড়িতে গিয়ে তাঁর শোকস্তব্ধ পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তিনি নিহত ইন্দ্রজিতের দাদার হাতে সরাসরি তুলে দেন সরকারি ‘সিভিক ভলান্টিয়ার’ (Civic Volunteer) পদের চাকুরির নিয়োগপত্র।
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার জেরে ক্ষিপ্ত জনতার প্রহারে প্রাণ হারাতে হয়েছিল স্থানীয় যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে। পরে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের তদন্তে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, মূল অপরাধের সঙ্গে ইন্দ্রজিতের কোনও দূরতম সম্পর্কও ছিল না। এই চরম ভুলের মাশুল দেওয়া অসহায় পরিবারটিকে কিছুটা সুরাহা দিতেই আজ নিজে উপস্থিত হয়ে চাকুরির চিঠি হস্তান্তর করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে রাজ্য সরকার এই পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।
এদিন সকালে সূর্যপুরে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে সোজা চলে যান নিহত নাবালিকার বাড়িতে। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি। অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে প্রশাসন যে বদ্ধপরিকর, তা তিনি স্পষ্ট করে দেন। নির্যাতিতার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেন তিনি।এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভাব-অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রশমনে আজই সূর্যপুরে একটি নতুন গ্রামীণ পুলিশ ফাঁড়ির (Police Outpost) উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই অঞ্চলে সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি বজায় রাখতেই এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এলাকায় শান্তি ফেরাতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। এই ঘটনায় যুক্ত কাউকে রেয়াৎ করা হবে না বলেও তিনি কড়া বার্তা দিয়েছেন।
