প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বারুইপুরের নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের ঘটনার তদন্তে নেমেছিল পুলিশ, কিন্তু তার পরিণতি যে এমন এক নাটকীয় ও বিতর্কিত মোড় নেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। তদন্তের স্বার্থে তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে যখন ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখনই ঘটে সেই চরম মুহূর্ত। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত হঠাৎই এক পুলিশ কর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার খাতিরে পুলিশও পালটা গুলি চালালে অকুস্থলেই মৃত্যু হয় তার। পুলিশি ‘এনকাউটারে’ মূল অপরাধীর এই আকস্মিক খতমের খবর ছড়িয়ে পড়তেই যখন রাজ্যজুড়ে শোরগোল, ঠিক তখনই এই গোটা ঘটনাটি নিয়ে এক চরম বিস্ফোরক ও ভিন্ন সুর শোনা গেল তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের গলায়।জনমানসে যখন এই তাৎক্ষণিক ন্যায়বিচার নিয়ে নানা চর্চা চলছে, ঠিক সেই আবহেই পুলিশের এই তত্ত্বকে পুরোপুরি খারিজ করে সোচ্চার হয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন, অপরাধী যতই নৃশংস হোক না কেন, দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এভাবে সাজা দেওয়ার অধিকার পুলিশকে কে দিল? মহুয়ার দাবি, যদি অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টাও করে থাকে, তবে তাকে কাবু করার জন্য পায়ে বা হাঁটুর নিচে গুলি না করে সরাসরি কেন এমনভাবে গুলি চালানো হলো যাতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়? এই ঘটনাকে ভিনরাজ্যের এক বিশেষ রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে তুলনা করে তিনি একে আইনের শাসনের পরিপন্থী বলে তোপ দেগেছেন।
সাংসদের এই চরম আপত্তির পর বারুইপুরের এই ঘটনাটি কেবল একটি অপরাধের তদন্তের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক গভীর রহস্য ও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের বড় অংশের মনে এখন একটাই খটকা— এই এনকাউন্টারের নেপথ্যে কি কেবলই আত্মরক্ষা, নাকি এর আড়ালে চাপা পড়ে গেল কোনো বড় ষড়যন্ত্রী বা রাঘববোয়ালের নাম? আইন বনাম এনকাউন্টার সংস্কৃতির এই টানাপোড়েনে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।
