প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বারুইপুরে নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর এক নজিরবিহীন ও স্তম্ভিত করার মতো ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা রাজ্য। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কিংবা পুলিশি তৎপরতার গল্পকে ছাপিয়ে এখন সর্বত্র চর্চায় উঠে এসেছে মৃত যুবকের পরিবারের অবিশ্বাস্য প্রতিক্রিয়া। সচরাচর প্রিয়জনের মৃত্যুতে কান্নার রোল উঠলেও, প্রভাসের ক্ষেত্রে ঘটল ঠিক তার উল্টো। নিজের স্বামীর এই নৃশংস পরিণতিতে বিন্দুমাত্র শোক প্রকাশ না করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তাঁর স্ত্রী চাঁপা মণ্ডল।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চাঁপা দেবী প্রভাসের অন্ধকার অতীতের ওপর থেকে পর্দা সরিয়েছেন। তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই প্রভাস তাঁর ওপর লাগাতার চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। এতদিন কেবল একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং সংসারের কথা চিন্তা করে সমস্ত অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রভাসের চারিত্রিক অবক্ষয় এবং অপরাধমূলক মানসিকতা যে এতটা নোংরা স্তরে পৌঁছাতে পারে, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।
বারুইপুরের নাবালিকার ওপর হওয়া নৃশংস নির্যাতনে প্রভাসের জড়িত থাকার বিষয়টি তাঁর স্ত্রী বিন্দুমাত্র অস্বীকার বা আড়াল করার চেষ্টা করছেন না। চাঁপা দেবীর কথায়, ও বরাবরই এক নোংরা স্বভাবের লোক ছিল। যে অন্যায় ও করেছে, তার শাস্তি ও পেয়েছে। নিজের কর্মফলের কারণেই আজ পুলিশের গুলিতে ওর মৃত্যু হয়েছে এবং এই নিয়ে তাঁর নিজের কোনো আক্ষেপ বা বলার কিছু নেই।
ছেলেকে নিয়ে শুধু স্ত্রী চাঁপা মণ্ডলই নন, মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে প্রভাসের নিজের জন্মদাত্রী মা-ও। মা সন্ধ্যা মণ্ডলও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এমন কুলাঙ্গার ছেলের জন্য তাঁর চোখে কোনো জল নেই। এমনকি প্রভাসের নিথর দেহ হাসপাতাল থেকে গ্রহণ করতেও সাফ অস্বীকার করেছে গোটা পরিবার।তদন্তকারী পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে যখন নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখনই সে পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বারুইপুর কাণ্ডের এই মূল চক্রীর। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর খোদ স্ত্রীর এই কড়া অবস্থান অপরাধ জগতের অন্ধকার মনস্তত্ত্বে এক নজিরবিহীন বার্তা দিয়ে গেল।
