প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বারুইপুরের সূর্যপুর হাটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার আইনের রাশ একযোগে শক্ত করল জেলা পুলিশ। একটি নৃশংস খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে একের পর এক আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে, তার প্রেক্ষিতে বারুইপুর থানার পক্ষ থেকে মোট ৩টি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও পৃথক মামলা (Three Separate FIRs) রুজু করা হয়েছে। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অপরাধ যে পক্ষই করুক না কেন, কাউকেই রেয়াত করা হবে না।আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম এবং প্রধান মামলাটি দায়ের হয়েছে ১২ বছরের নাবালিকা ছাত্রীকে অপহরণ, পাশবিক নির্যাতন, গণধর্ষণ এবং নৃশংসভাবে খুনের ঘটনার প্রেক্ষিতে। এই মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো (POCSO) আইনের একাধিক জামিন অযোগ্য ও কঠোরতম ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ধৃত ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে এই মামলার তদন্তভার ইতিমধ্যেই স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা ‘সিট’-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলাটি রুজু হয়েছে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অপরাধে। নাবালিকা খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে যে ৪০ বছর বয়সী ব্যক্তিকে উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে, সেই গণপিটুনির ঘটনার প্রেক্ষিতেই এই দ্বিতীয় এফআইআর। পুলিশের দাবি, অপরাধী নির্ধারণ করার দায়িত্ব আদালতের, সাধারণ মানুষ আইন হাতে তুলে নিয়ে কাউকে হত্যা করতে পারে না। সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল ভিডিও দেখে এই গণপিটুনিতে যুক্ত উন্মত্ত জনতাকে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তৃতীয় এবং শেষ মামলাটি দায়ের হয়েছে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশের ওপর প্রাণঘাতী হামলা এবং উস্কানিমূলক অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে। রবিবার দেহ উদ্ধারের পর যেভাবে বারুইপুর-জয়নগর ও কুলপি রোড অবরোধ করে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং পুলিশ কর্মীদের লক্ষ্য করে তীব্র ইটবৃষ্টি করা হয়েছে, তার ভিত্তিতেই এই মামলা। এই মামলায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং দাঙ্গাবাজির ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই পৃথক ৩টি মামলার জেরে বারুইপুর জুড়ে আইনি তৎপরতা এখন তুঙ্গে।
