Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বেলেঘাটায় ‘বিরোধী’ বিধায়ক কুণালকে ঘিরে ‘চোর’ স্লোগান, বাড়ি না মেলার অভিযোগে ক্ষোভ জনতার!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নবান্ন থেকে বিদায় নিয়েছে তৃণমূল। নীল-সাদা দিন শেষ হয়ে বঙ্গে এখন পদ্ম-যুগ। কিন্তু ক্ষমতা গেলেও কি স্বভাব যায়? শাসকের তখত হারিয়ে বিরোধী বেঞ্চে বসার পরেও বিদায়ী জমানার দুর্নীতি আর কাটমানির ভূত যেন তাড়া করে বেড়াচ্ছে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের। এবার খোদ কলকাতার বুকে সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়লেন বেলেঘাটার সদ্যনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁকে সামনে পেয়ে প্রকাশ্যেই ‘চোর চোর’ স্লোগান তুলে এলাকা কাঁপালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বেলেঘাটার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।

অভিযোগের তীর মূলত ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তীর দিকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তৃণমূল যখন রাজ্যের ক্ষমতায় ছিল, তখন বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষকে ভুরি ভুরি মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও গরিব মানুষের কপালে জোটেনি মাথা গোঁজার ঠাঁই। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিদায়ী জমানায় আবাসন বণ্টন নিয়ে তৃণমূল স্তরে যে বিপুল ‘কাটমানি’ ও সিন্ডিকেট রাজ চলেছিল, বর্তমান সরকারের কড়া নজরদারির যুগে তা ধোপে না টেকাতেই এই চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

এদিন কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তীর অফিসে একটি বৈঠক সারতে গিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি ভিতরে বসা অবস্থাতেই বাইরে জমায়েত হন শয়ে শয়ে বঞ্চিত মানুষ। এলাকার মানুষ তাঁদের হকের বাড়ির দাবি জানাতে গেলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। কাউন্সিলরের দেখা না পেয়ে ক্ষুব্ধ জনতা বিধায়ককে ঘিরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবং “তৃণমূলের চোরেরা হকের টাকা ফিরিয়ে দাও” বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “রাজ্যে তৃণমূলের সরকার চলে গেলেও ওদের দুর্নীতির স্বভাব বদলায়নি। এত বছর ধরে সাধারণ মানুষের হকের বাড়ি নিয়ে যারা দুর্নীতি করেছে, আজ মানুষ তাদের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। এখন মানুষ রাস্তাতেই ওদের হিসাব বুঝে নিচ্ছে। কুণাল ঘোষদের তো এখন সাধারণ মানুষের এই রাগের মুখোমুখি হতেই হবে।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিল যে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত খোদ কলকাতার বুকেও কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ আর কোনো অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করতে রাজি নন।

Exit mobile version