প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নাটক প্রতি মুহূর্তেই নতুন রঙ নিচ্ছে। শনিবার সকালে যে প্রার্থী “ভোটে লড়ব না” বলে বহরমপুরের দিকে রওনা দিয়েছিলেন, চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তিনি এখন যুদ্ধের ময়দানে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়! মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (MAITMC)-এর প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী আজ দুপুরে বেলডাঙার দলীয় কার্যালয়ে এক হাইপ্রোফাইল নির্বাচনী রণকৌশল বৈঠক সারলেন। গতকাল সকালে মূল দলীয় প্রতীক (জোড়াফুল) হাতছাড়া হওয়া এবং কর্মী-সমর্থকদের ওপর লাগাতার পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ তুলে রবিউল বাবু নিজেই লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে স্বয়ং দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের অনুরোধে তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করেন এবং লড়াইয়ে টিকে থাকার চরম ইউটার্ন নেন।
লড়াইয়ে ফেরার ঘোষণা করার পরেই আজ রবিউল আলম চৌধুরী কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন। এদিন বেলডাঙা পার্টি অফিসে আয়োজিত বিশেষ স্ট্র্যাটেজি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ, জলঙ্গির বিধায়ক বাবর আলীসহ মুর্শিদাবাদ জেলার একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব ও ব্লক সভাপতিরা। বৈঠক শেষে রবিউল আলম চৌধুরী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, “দলের প্রতীক বা নাম বদল হলেও তৃণমূল স্তরের কর্মীরা আমাদের সঙ্গেই আছেন। ১০ জন কর্মী পাশে থাকলেও তাঁদের নিয়েই আমরা মাঠ কাঁপিয়ে প্রচার করব।” বেলডাঙা থানা থেকেও ইতিমধ্যেই কর্মীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসন তাঁকে মৌখিক আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ রেজিনগর আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে জোড়াফুল প্রতীক সাময়িকভাবে হিমঘরে চলে যাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নতুন গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ ভিন্ন নাম ও নতুন প্রতীকে লড়াই করতে হচ্ছে। আজকের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মূলত দুটি প্রধান রণকৌশল ঠিক করা হয়েছে—১. ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অতি দ্রুত নতুন প্রতীকটি চিনিয়ে দেওয়া। ২. পুলিশ ও বিরোধী দলগুলির যে কোনও ধরনের চাপ বা পালটা হামলার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াইয়ের শক্তি জোগানো। গতকাল যেখানে মনে করা হচ্ছিল রেজিনগরে মমতা শিবিরের কোনও প্রার্থীই থাকছে না, সেখানে রবিউলের এই ঝোড়ো প্রত্যাবর্তন এবং বিধায়কদের নিয়ে এই জরুরি বৈঠক উপনির্বাচনের পারদ এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
