Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বাংলায় ঐতিহাসিক সূর্যোদয়: শুভেন্দুর রাজত্বে গরু-মোষ কাটার নিয়মে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা নবান্নের!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পালাবদলের পর, নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যভার গ্রহণ করতেই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। রাজ্যে গরু, মোষ, ষাঁড় ও বাছুর হত্যার নিয়মে এক ঐতিহাসিক ও কঠোর নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের নতুন সরকার। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায়কে হাতিয়ার করে রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যা নিয়ে এই মুহূর্তে গোটা রাজ্যে তীব্র আলোড়ন।আর যখন-তখন বা যেখানে-সেখানে নয়, নতুন নির্দেশিকায় পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যে এখন থেকে আর চাইলেই বা যখন-তখন গবাদি পশু হত্যা করা যাবে না। শুধু তাই নয়, যেখানে-সেখানে প্রকাশ্যে পশু জবাই বা বলির ওপরেও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সমস্ত নিয়ম মেনে কেবল সরকার স্বীকৃত এবং নির্দিষ্ট কসাইখানাতেই এই কাজ করা যাবে। প্রকাশ্য রাস্তায় বা খোলা জায়গায় এই আইন লঙ্ঘন করলে নব্য বিজেপি সরকার যে বিন্দুমাত্র রেয়াত করবে না, তা সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় চমক রয়েছে অনুমতির প্রক্রিয়ায়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গবাদি পশু কাটা বা বলি দিতে গেলে এখন থেকে জোড়া সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হবে। স্থানীয় পুরসভার চেয়ারম্যান কিংবা পঞ্চায়েত সভাপতির পাশাপাশি সরকারি পশু চিকিৎসকের (Veterinary Surgeon) যৌথ লিখিত সার্টিফিকেট থাকতে হবে। এই দুই পক্ষের যৌথ অনুমোদন ও সার্টিফিকেট ছাড়া রাজ্যে একটিও গরু বা মোষ কাটা যাবে না। আইন কঠোর করে জানানো হয়েছে, যে কোনো সুস্থ বা কম বয়সী পশুর ওপর ছুরি চালানো যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী:পশুর বয়স ন্যূনতম ১৪ বছরের বেশি হতে হবে। অথবা, পশুটি যদি কাজ বা বংশবৃদ্ধির জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়ে, তবেই মিলবে ছাড়। কোনো পশু স্থায়ীভাবে পঙ্গু হলে বা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলে, তবেই চিকিৎসকের রিপোর্টের ভিত্তিতে ছাড় দেওয়া হতে পারে।

নবান্নের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই নির্দেশিকা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। যদি কেউ প্রশাসনের এই যৌথ সার্টিফিকেট ছাড়া বা অনুমোদিত কসাইখানার বাইরে গোপনে বা প্রকাশ্যে গবাদি পশু হত্যা করে, তবে তা অত্যন্ত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। আইন অমান্যকারীর সর্বোচ্চ ৬ মাসের জেল এবং বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা হতে পারে। গবাদি পশুর অবৈধ পরিবহন এবং গবাদি পশুর চোরাচালান রুখতেও পুলিশ প্রশাসনকে নাকা চেকিং বহুগুণ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় নতুন যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথেই গবাদি পশু রক্ষা এবং অবৈধ কসাইখানা বন্ধের দাবিতে চলা দীর্ঘদিনের আন্দোলনে শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্ত এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। ডবল ইঞ্জিনের সরকারের এই কড়া নির্দেশিকা এবার মাটিতে নেমে কতটা কঠোরভাবে কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version