প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতায় আসার মাত্র ৩ মাসের মাথায় দলীয় শৃঙ্খলারক্ষা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এক নজিরবিহীন এবং ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। নতুন বিজেপি সরকারের আমলেও নিচুতলায় তোলাবাজি ও কাটমানি সংস্কৃতির কিছু অভিযোগ সামনে আসতেই চরম অ্যাকশন মোডে অবতীর্ণ হয়েছে দলীয় নেতৃত্ব। তোলাবাজিসহ একাধিক গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাজ্য বিজেপি একসঙ্গে ২২ জন কর্মীকে দল থেকে সাসপেন্ড করেছে এবং ২৫০ জনেরও বেশি কর্মীকে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে। ক্ষমতায় আসার পরেই দলের অন্দরে শুদ্ধিকরণের এই মেগা অ্যাকশন নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
বিগত তৃণমূল জমানার তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলেও, গত তিন মাসে কিছু নিচুতলার কর্মী ও নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ জমা পড়ে রাজ্য বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কাছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর “জিরো টলারেন্স” নীতি এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের কড়া লাইন মেনে সাথে সাথেই পদক্ষেপ নেয় দল।শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান জানান, প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ২৫০ জনেরও বেশি দলীয় কর্মীকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৮০ জন কর্মীর পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যা ও উত্তর গ্রহণযোগ্য এবং সন্তোষজনক মনে হওয়ায় তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশের আওতা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে রাজ্য বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। সন্তোষজনক উত্তর না মেলাতেই ২২ জনের ওপর ‘সাসপেনশনের খাঁড়া’বাকি অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে দলের অবস্থান ছিল অত্যন্ত কড়া। কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পর যে সমস্ত কর্মী বা নেতা সদুত্তর দিতে পারেননি কিংবা যাঁদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অকাট্য প্রমাণ মিলেছে, তাঁদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হয়নি। শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রহণযোগ্য উত্তর না মেলায় ২২ জন কর্মীকে দল থেকে সরাসরি সাসপেন্ড করার চূড়ান্ত নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
বিজেপির এই নজিরবিহীন কড়া সিদ্ধান্তের পর দলের রাজ্য নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, রাজ্যে পরিবর্তনের প্রধান মূলধনই ছিল দুর্নীতি ও তোলাবাজির অবসান। দল ক্ষমতায় এসেছে বলে কোনো কর্মী যদি মনে করেন যে তাঁরাও বিগত জমানার মতো সিন্ডিকেট বা তোলাবাজি চালাবেন, তবে তাঁদের জায়গা বিজেপিতে নয়, সরাসরি জেলেই হবে। মুখ্যমন্ত্রী ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই কড়া পদক্ষেপের পর একদিকে যেমন রাজ্যবাসীর কাছে নতুন সরকারের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হলো, তেমনই দলের ভেতরের সুবিধাবাদী ও তোলাবাজ অংশের মধ্যে চরম ভীতি তৈরি হয়েছে।
