প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পুজো মিটতেই রাজকীয় নির্বাচনী ডামাডোল। রাজ্য নির্বাচন কমিশন আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যের বকেয়া পুরসভাগুলির নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ করতে চাইছে। এই মেগা লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখেই আজ, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬), সমস্ত জেলাশাসক এবং নির্বাচন আধিকারিকদের সাথে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফাতেই হাইপ্রোফাইল এলাকাগুলিতে ভোট করানো হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে কলকাতা, হাওড়া ও বালি-সহ ৮টি পুরসভা।
ভোটের আবহ তৈরি হতেই রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় জল্পনা তৈরি হয়েছে তৃণমূল ছেড়ে আসা বিদ্রোহী সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নতুন দল (Nationalist Citizens Party of India)-এর সঙ্গে বিজেপির আসন সমঝোতা নিয়ে। ইতিমধ্যেই সুদীপ-কাকলিরা পুরভোটে বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে যৌথ লড়াইয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এই জল্পনায় জল ঢেলে কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ রাজ্যে বিজেপির কোনো রাজনৈতিক জোট শরিক নেই। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন:”আমরা এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনেও কারও সঙ্গে জোট করে লড়িনি, একা লড়েছিলাম। তাই পুরভোটে অন্য কারও সঙ্গে জোট করা নিয়ে আলাদা করে ভাবার এই মুহূর্তে কোনও জায়গা নেই। আমরা আমাদের মতো করেই একক শক্তিতে লড়ব।” তিনি আরও যোগ করেন, জোট সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র এক্তিয়ার কেবল রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের রয়েছে, তবে আপাতত বিজেপি সবকটি আসনেই এককভাবে লড়াই করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
সূত্রের খবর, যে সমস্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীরা বছরের পর বছর মাঠ-ঘাটে মার খেয়ে লড়াই করেছেন, তারা দল ভেঙে NCPI-তে যোগ দিলেই রাতারাতি তাদের সাথে জোট করা সম্ভব নয়। যদি তাদের আসন ছাড়া হয়, তবে নিচু তলার কর্মীদের কাছে অত্যন্ত ভুল বার্তা যাবে। ফলে সুদীপ-কাকলিদের জোটে লড়ার আর্জিকে বিজেপি যে বিন্দুমাত্র আমল দিচ্ছে না, তা এখন স্পষ্ট।
এদিকে রাজ্য নির্বাচন কমিশন আজ জেলাগুলির সাথে ভার্চুয়ালি বৈঠকে বসে মূলত ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ (Delimitation), বুথ পুনর্বিন্যাস এবং ইভিএম (EVM) মজুতকরণের মতো প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছে। কমিশনের লক্ষ্য, আইনি বা প্রশাসনিক কোনও খামতি না রেখে ডিসেম্বরের ডেডলাইনের মধ্যেই ভোট উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা।
