Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

দিদির আমলের বিতর্কিত ফরমান ডাস্টবিনে! শুভেন্দুর ঐতিহাসিক মাস্টারস্ট্রোকে এবার ওড়িশা-বিহার কাঁপাবে বাংলার আলু!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-এক ঐতিহাসিক এবং যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের সাক্ষী থাকলো পশ্চিমবঙ্গ। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দীর্ঘদিনের একমুখী ও বিতর্কিত কৃষি নীতিকে এক ঝটকায় ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে রাজ্যের অন্নদাতাদের জন্য এক অভূতপূর্ব স্বস্তির বার্তা আনল নতুন বিজেপি সরকার। বুধবার নবান্নে আয়োজিত এক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে আলু, পেঁয়াজসহ সমস্ত ধরণের কৃষিজ ও প্রাণিজ পণ্য দেশের যে কোনও রাজ্যে পাঠানোর ক্ষেত্রে পূর্বতন সরকারের জারি করা সমস্ত বিধিনিষেধ এবং নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো। আগামী ১৮ মে রাজ্য মন্ত্রিসভার (Cabinet) বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে সিলমোহর পড়তে চলেছে।

নতুন সরকারের এই মেগা ঘোষণার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে শাকসবজি, ফলমূল, খাদ্যশস্য, তৈলবীজ এবং অ্যানিমেল প্রোডাক্ট বা দুগ্ধজাত পণ্য অবাধে ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড বা অসমের মতো প্রতিবেশী রাজ্যগুলির বাজারে পাঠানো যাবে। মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন যে, বৈধ উপায়ে কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্তঃরাজ্য সীমান্তে পুলিশ, জেলা প্রশাসন বা পরিবহন দপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর কোনও প্রকার হেনস্থা বা তল্লাশি করা যাবে না। এই নিয়মের অন্যথা হলে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সুদূরপ্রসারী দূরদর্শিতা।২০২৫-২৬ মরশুমে পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড ১৪০ থেকে ১৫০ লক্ষ টন আলুর ফলন হয়েছে। এটি বিগত ৫ বছরের মধ্যে রাজ্যে সর্বোচ্চ উৎপাদন। গোটা রাজ্যে উপলব্ধ কোল্ড স্টোরেজগুলির মোট ধারণক্ষমতা মাত্র ৮২ লক্ষ টন। অর্থাৎ, প্রায় ৬০ লক্ষ টনেরও বেশি উদ্বৃত্ত ফসল রাজ্যে মজুত করার কোনও পরিকাঠামোই ছিল না। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে ভিন রাজ্যের বড় বাজারগুলি হাতছাড়া হচ্ছিল। ফলে রাজ্যে আলুর কৃত্রিম প্রাচুর্য তৈরি হয়ে দাম তলানিতে ঠেকেছিল। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে বাংলার চাষিরা চরম ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছিলেন।

বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, ভিন রাজ্যে আলু পাঠালে বাংলার বাজারে ঘাটতি হবে এবং দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। কিন্তু বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই একরোখা নীতির কারণে হিতে বিপরীত হয়েছিল। ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও অসমের মতো রাজ্যগুলি আলুর জন্য সম্পূর্ণ বাংলার ওপর নির্ভরশীল। সেখানে রপ্তানি বন্ধ করায় বাংলার কৃষকরা যেমন বড় বাজারের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন, তেমনই প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও কালোবাজারি বাড়ছিল।

নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই এই ‘কৃষক-বিরোধী’ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাল। ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলা প্রশাসনকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সতর্কতা ও সহযোগিতা করার সরকারি নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাংলার আলু ও কৃষিপণ্য এখন বুক ফুলিয়ে পাড়ি দেবে ভিন রাজ্যে, আর কৃষকদের ঘরে আসবে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা।

Exit mobile version