প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর যোগসাজশে সীমান্ত পেরিয়ে চরবৃত্তি ও তথ্য পাচারের অভিযোগে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ফজলে রব্বি (সিদ্দিকী) নামে এক ব্যক্তিকে। ধৃত ব্যক্তি ইসলামপুর ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি জাকির হোসেনের ভাই হওয়ায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। STF সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ইসলামপুরের পাটাগড়া এলাকা থেকে ফজলে রব্বিকে আটক করা হয়। এরপর ইসলামপুর থানায় নিয়ে গিয়ে টানা ৮ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় গভীর রাতে তাকে অফিশিয়ালি গ্রেফতার করে গোয়েন্দারা। গতকাল ধৃতকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্র অনুযায়ী, এই গ্রেফতারির যোগসূত্র রয়েছে কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ থানায় রুজু হওয়া একটি সুনির্দিষ্ট মামলার সাথে। গত ১৪ আগস্ট সাহেবগঞ্জ থানা এলাকা থেকে সন্দেহভাজন আইএসআই (ISI) লিঙ্কের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল STF। ধৃতরা হলেন— দিনহাটার রশিদুল হক, তুফগঞ্জের নূর নাসিরুদ্দিন আলি এবং উত্তর দিনাজপুরের শফিকুল ইসলাম। ধৃতদের জেরা করে জানা যায়, এই চক্রটি মূলত এদেশের সক্রিয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছে পাচার করত। সেই ভারতীয় সিম কার্ড দিয়ে পাকিস্তানে বসেই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হতো, যাতে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাকে বিভ্রান্ত করা যায়। ধৃত শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যদের জেরা করে এবং তাদের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস খতিয়ে দেখার পরেই ইসলামপুরের ফজলে রব্বির নাম সামনে আসে এবং তাকে জালে তোলে STF।
যেহেতু বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সাথে জড়িত, তাই STF অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলছে। ধৃত ফজলে রব্বির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল ফোন এবং নথিপত্র ইতিমধ্যেই ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। এদিকে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না এবং অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, কঠোর শাস্তি পাবে। অন্যদিকে, বর্তমানে বিরোধী আসনে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় এবং এর সাথে দলের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। আইন নিজের পথেই চলবে। উত্তরবঙ্গ এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে ব্যবহার করে এই চক্রের শিকড় আর কতদূর বিস্তৃত, তা জানতেই এখন ধৃত ফজলে রব্বিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা চালাচ্ছে STF।
