Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

৮ টা বাজলেই ঘরে ফেরার দিন শেষ! বাংলার মা-বোনেদের জন্য বিরাট এক সিদ্ধান্ত মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-“পশ্চিমবঙ্গের মায়েরা এবং মেয়েরা দিনের যেকোনো সময় বাইরে বেরোতে পারবেন, যেকোনো পোশাক পরতে পারবেন এবং যা ইচ্ছে খেতে পারবেন। রাত আটটার পর কোনো নারী কেন বাইরে ছিলেন—এমন প্রশ্ন করার দিন এবার শেষ!”—নবান্নে পা রেখেই বাংলার নারী সমাজকে এক অভূতপূর্ব ও শক্তিশালী বার্তা দিলেন নবনিযুক্ত পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। দায়িত্বভার গ্রহণ করেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার খোলনলচে বদলে এবং নারীদের সার্বিক স্বাধীনতা ও গতিবিধি সুনিশ্চিত করতে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন তিনি। বিগত দিনে নারী নিরাপত্তা নিয়ে ওঠা একাধিক বিতর্কের আবহে বর্তমান সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তকে এক ঐতিহাসিক মোড়বদল হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। কী সেই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত?

অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বাংলায় এতদিন পর্যন্ত মহিলাদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট আপদকালীন হেল্পলাইন ছিল না। সেই খামতি দূর করতে রাজ্য জুড়ে অবিলম্বে চালু করা হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার ডেডিকেটেড উইমেন হেল্পলাইন নম্বর ‘১৮১’। যেকোনো সংকটে বা বিপদে পড়ে কোনো মহিলা এই টোল-ফ্রি নম্বরে ডায়াল করলে, স্থানীয় প্রশাসন ও নিকটবর্তী থানা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের ‘মিশন শক্তি’ নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই ১৮১ হেল্পলাইনটি পুলিশ, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (OSC), হাসপাতাল এবং আইনি সহায়তা সেলের সাথে সরাসরি যুক্ত থেকে নারীদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রদান করবে। সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটি দ্রুত সচল করার লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে চাইল্ড হেল্পলাইন নম্বরের পরিকাঠামোকে এর সাথে যুক্ত করে কাজ শুরু হচ্ছে, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়।

কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মিনিস্ট্রি অব উইমেন অ্যান্ড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট’ (MWCD)-এর তথ্য অনুযায়ী, সমগ্র দেশ জুড়ে ‘১৮১’ হেল্পলাইন নম্বরের মাধ্যমে ইতিপূর্বে ৮১ লক্ষেরও বেশি মহিলাকে জরুরি আপদকালীন ও আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। দেশের একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই পরিষেবা চূড়ান্ত সফলভাবে কার্যকর। রাজনৈতিক বা নীতিগত জটিলতার কারণে ইতিপূর্বে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ নারীরা এর সরাসরি সুবিধা থেকে যেভাবে বঞ্চিত হচ্ছিলেন, নতুন মন্ত্রীর এই সদিচ্ছায় সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে।

শুধু হেল্পলাইন নম্বরই নয়, রাজ্য জুড়ে পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকাগুলোতে সচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অপরাধ দমনে ব্যাপক হারে সিসিটিভি (CCTV) নজরদারি চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। প্রশাসনিক কাঠামোর আধুনিকীকরণের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই প্রতিটি নারীর স্বাধীনতা ও সুরক্ষার অধিকার বজায় রাখাই এই নতুন উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

Exit mobile version