Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভবানীপুরে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় ‘অঘটন’-এর পূর্বাভাস? মিত্র ইনস্টিটিউশনে ঢুকে কী এমন করলেন শুভেন্দু?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনীতির এপিসেন্টার আজ হঠাৎ করেই বদলে গেল। যে মিত্র ইনস্টিটিউশন মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের চওড়া হাসি, আজ সেই বুথের বারান্দায় দাঁড়িয়েই উল্টো সুর গাইলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভোটারদের সাথে হাত মেলানো থেকে শুরু করে সরাসরি চ্যালেঞ্জ—ভবানীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু যা করলেন, তাতে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে: তবে কি এবার ঘরের মাঠেই কঠিন লড়াইয়ের মুখে মুখ্যমন্ত্রী?

হরীশ মুখার্জি রোডের মিত্র ইনস্টিটিউশন—যেখানে প্রতি বছর ভোট দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ সেই চত্বরেই পা রাখলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২১১ নম্বর বুথ সহ ওই এলাকার একাধিক বুথে এদিন পরিদর্শন করেন তিনি। শুধু পরিদর্শনই নয়, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। আর সেখান থেকেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট জানান, “এখানে আমিই জিতব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে যে বুথে ভোট দেবেন, সেখানে আমার লিড সবচেয়ে বেশি থাকবে।”

ভবানীপুর মানেই তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ বলে পরিচিত হলেও, গত কয়েকটি নির্বাচনের পরিসংখ্যান কিন্তু অন্য কথা বলছে। লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে দেখা গিয়েছে, ভবানীপুরের সব বুথে শাসকদল একচেটিয়া লিড পায়নি। বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট ওয়ার্ড এবং বুথ এলাকায় বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে লড়াই হয়েছে কাঁটায় কাঁটায়। শুভেন্দু অধিকারী আজ সেই গাণিতিক সম্ভাবনাকেই উসকে দিতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর খাস পাড়ায় দাঁড়িয়ে।

এদিন মিত্র ইনস্টিটিউশনের ভেতরে ও বাইরে শুভেন্দুর উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয় প্রবল উত্তেজনা। বুথের ভেতরে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া ঠিকঠাক চলছে কি না, ভোটাররা অবাধে আসতে পারছেন কি না—সেদিকে নজর রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত মেলাতেও দেখা যায় তাঁকে। শুভেন্দুর এই ‘আত্মবিশ্বাসী’ মেজাজ দেখে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এটি শাসক শিবিরের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়ানোর একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের বুথে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই লিড পাওয়ার দাবি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে শুভেন্দুর এই সরাসরি চ্যালেঞ্জ বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। ঘরের মাঠের লড়াইয়ে কি শেষ হাসি হাসবেন মমতাই? নাকি শুভেন্দুর দাবি মিলিয়ে দিয়ে চমক দেবে মিত্র ইনস্টিটিউশনের ইভিএম? গোটা বাংলার নজর এখন সেদিকেই।

Exit mobile version