প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই এবার এক ঐতিহাসিক মোড় নিতে চলেছে। রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবার সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন নন্দীগ্রামের লড়াকু নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় সূত্রের খবর, আগামী ২ এপ্রিল ভবানীপুর আসনের জন্য নিজের মনোনয়ন পত্র দাখিল করতে পারেন তিনি। আর এই হাই-প্রোফাইল মনোনয়ন পর্বকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রবল গুঞ্জন— শুভেন্দুর পাশে থাকতে ওই দিন কলকাতায় উপস্থিত থাকতে পারেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বিজেপি এবার ‘কাঁটে কি টক্কর’ দেওয়ার নীতিতে অবিচল। নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের ঘরের মাঠে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়তে তৈরি শুভেন্দু। গেরুয়া শিবিরের মতে, ভবানীপুর আর তৃণমূলের ‘সেফ প্যাসেজ’ নেই। গত লোকসভা নির্বাচনের ফলের নিরিখে এই কেন্দ্রের একাধিক ওয়ার্ডে বিজেপি লিড পেয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েট নেতাকে এখানে প্রার্থী করে বিজেপি হাইকম্যান্ড বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তাঁরা এবারের নির্বাচনে বিন্দুমাত্র জমি ছাড়তে নারাজ।
যদি ২ এপ্রিল শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পর্বে অমিত শাহ উপস্থিত থাকেন, তবে তা হবে বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক বড় ঘটনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের উপস্থিতি কেবল শুভেন্দুকে সমর্থন জানানোই নয়, বরং এটি ভবানীপুরের ভোটারদের কাছে এক বলিষ্ঠ বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি প্রমাণ করবে যে, মোদী-শাহ জুটি ভবানীপুরের লড়াইকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন। এটি বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের মনোবলকে তুঙ্গে নিয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের মনে ‘আসল পরিবর্তন’-এর ভরসা জাগাবে।
মনোনয়ন জমার আগেই ভবানীপুরের অলিতে-গলিতে নিজের জনসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কখনও যদুবাবুর বাজারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, আবার কখনও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে গিয়ে শুনছেন তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা। ‘ভূমিপুত্র’ বনাম ‘বহিরাগত’ তত্ত্বে তৃণমূল যখন শান দিচ্ছে, তখন শুভেন্দু পাল্টা লড়াই দিচ্ছেন ‘উন্নয়ন’ এবং ‘পরিবারতন্ত্র’ মুক্তির ডাক দিয়ে। তাঁর কথায়, “ভবানীপুর এবার ভয়মুক্ত হবে। ঘরের মেয়ে নয়, ভবানীপুর এবার ঘরের ছেলেকে চাইছে যে তাঁদের কথা বিধানসভায় বলবে।”
৩০ মার্চ নন্দীগ্রামের মনোনয়ন পর্ব সেরে ফেলার পর ২ এপ্রিল ভবানীপুরের এই কর্মসূচি বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের এই কেন্দ্র পুনর্দখল করার লড়াই, আর অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর ‘দুর্গ জয়ের’ সংকল্প— সব মিলিয়ে আগামী ২ এপ্রিলের দিকে নজর থাকবে গোটা দেশের।
বিজেপি কর্মীদের মধ্যে এখন সাজ সাজ রব। অমিত শাহ এবং শুভেন্দু অধিকারীর এই যৌথ মেজাজ যে ভবানীপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে, তা নিয়ে এখন থেকেই আশঙ্কায় শাসক দল। এখন শুধু অপেক্ষা ২ এপ্রিলের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের।
