Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভবানীপুরে রুদ্ধশ্বাস সংঘাত! চক্রবেড়িয়ায় ৫০ মিটারের ব্যবধানে মুখোমুখি মমতা-শুভেন্দু, রণক্ষেত্র কলকাতা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সাল ২০২৬, তারিখ ২৯ শে এপ্রিল। বাংলার রাজনীতির দুই মেরু—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার সকালেই ভবানীপুরের সরু গলিতে মুখোমুখি দাঁড়াল দুই রণংদেহী মেজাজ। দূরত্ব মাত্র ৫০ মিটার, কিন্তু উত্তেজনার পারদ ছোঁয়াতেই পৌঁছে গেল হিমালয়ের শিখরে। মাঝখানে থমকে রইল গণতন্ত্রের উৎসব।

সকাল তখন সবে গড়িয়েছে। ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসুর বাড়ির সামনে আচমকাই ভিড় বাড়তে শুরু করে। অভিযোগ ছিল, গত রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী বিনা পরোয়ানায় এই বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে। ঘরের মেয়ে তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছে যান সেখানে। কিন্তু নাটকের ক্লাইম্যাক্স তখনও বাকি ছিল! মমতা যখন সেখানে গিয়েছেন, ঠিক তখনই চক্রবেড়িয়ার মোড় ঘুরে হুঙ্কার দিয়ে ঢোকে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়।

মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় একদিকে, আর মাত্র কয়েক হাত দূরে বিজেপির গেরুয়া শিবিরের সেনাপতির গাড়ি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মনে হচ্ছিল এই বুঝি দুই শিবিরের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ বেঁধে যাবে। ভোটের ডিউটিতে থাকা পুলিশ কর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ঘাম ছুটে যায় দুই হেভিওয়েটকে সামলাতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তখন নিরাপত্তার বলয়, আর বাইরে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সিআরপিএফ রক্ষীদের নিয়ে যেন ব্যুহ ভেদ করার মেজাজে। দুই নেতার কেউ এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে রাজি নন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরের এই ‘ফেস-অফ’ আসলে এই দফার ভোটের স্নায়ুযুদ্ধ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বোঝাতে চেয়েছেন তিনি তাঁর কর্মীদের জন্য রাস্তায় আছেন, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি সেখানে উপস্থিতি জানান দিচ্ছে যে, ভবানীপুরের মাটি এবার দখল করা তাঁর কাছে সম্মানের লড়াই।

চক্রবেড়িয়ার এই ক্ষণস্থায়ী কিন্তু তীব্র সংঘাতের রেশ এখন সারা বাংলার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ভোট কি বুথে হচ্ছে নাকি রাস্তায়—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আমজনতার মনে। তবে হাইভোল্টেজ এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কার—কালীঘাটের অগ্নিকন্যার নাকি নন্দীগ্রামের বীরের—তা জানা যাবে ফলাফলের দিনে।

Exit mobile version