Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভবানীপুরের ডেরায় ‘বহিরাগত’ আতঙ্ক? মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই বিজেপি কর্মীদের হুঙ্কার, পাল্টা ১০ হাজার লোক ডাকার হুঁশিয়ারি!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মহাযুদ্ধ শেষ হতে না হতেই রণক্ষেত্র খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুর। গতকাল রাতে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্র ঘিরে যা ঘটল, তা কার্যত নজিরবিহীন। ইভিএম কারচুপির আশঙ্কায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন গণনাকেন্দ্রের ভেতরে, ঠিক তখনই বাইরে তাঁকে ঘিরে শুরু হয় বিজেপি কর্মীদের প্রবল বিক্ষোভ। ৪ ঘণ্টা ভেতরে থাকার পর বেরিয়ে মেজাজ হারিয়ে কার্যত রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী।

গতকাল গভীর রাতে আচমকাই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ ছিল, ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ঢোকামাত্রই গণনাকেন্দ্রের বাইরে ভিড় জমান বিজেপি সমর্থকরা। ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান আর বিক্ষোভের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রায় ৪ ঘণ্টা পর যখন তিনি বেরিয়ে আসেন, তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকেও।

গাড়ি থেকে বেরিয়েই মেজাজ হারান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের মোবাইলে একটি ভিডিও দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এক যুবক রয়েছেন যিনি গুজরাত থেকে এসেছেন। মমতার বিস্ফোরক দাবি, ওই যুবক ভবানীপুরের ভোটারই নন। প্রশ্ন উঠছে, পরাজয়ের আঁচ পেয়েই কি শেষে ‘বহিরাগত’ তত্ত্বে শান দিতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী? নাকি বিজেপি কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগকেই তিনি ‘গুজরাতি ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দাগিয়ে দিতে চাইলেন?

বিক্ষোভের মুখে মেজাজ ধরে রাখতে না পেরে প্রকাশ্যেই ১০ হাজার লোক জড়ো করার হুমকি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানান, “গণনাকেন্দ্রের বাইরে ঝগড়া করার জায়গা নয়। যে যুবক চিৎকার করছেন তিনি তো গুজরাত থেকে এসেছেন। এটা আমার জায়গা, চাইলে আমি ১০ হাজার লোক জড়ো করতে পারি।” মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘শক্তি প্রদর্শনের’ বার্তা ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।

বিজেপি শিবিরের দাবি, ২০২৬-এর ফলের পূর্বাভাস বুঝেই মুখ্যমন্ত্রী আতঙ্কিত। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভকে ধামাচাপা দিতেই তিনি ‘গুজরাতি’ কার্ড খেলছেন। বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা তোপ, “বাংলার মানুষ যখন তাঁর ওপর থেকে ভরসা তুলে নিচ্ছে, তখন ১০ হাজার লোক ডাকার হুমকি কি গণতন্ত্রের লক্ষণ?” গণনার আগের রাতে ভবানীপুরের এই নাটকীয়তা কি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্পষ্ট সংকেত? নজর থাকবে আমাদের পোর্টালে।

Exit mobile version