প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা ঘটিয়ে আজ ১৮ তম বিধানসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন বাংলার নতুন জননেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে আজ শপথগ্রহণের মুহূর্তেই অত্যন্ত চতুর ও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—উভয় আসনেই বিপুল ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয়লাভ করলেও, আজ তিনি বিধানসভায় ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবেই শপথবাক্য পাঠ করলেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে আলোচনা করেই এই মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রটি এতদিন তৃণমূলের সবথেকে বড় ভিআইপি আসন বলে পরিচিত ছিল। সেই কেন্দ্রে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশাল ভোটে পরাজিত করে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের মাঠে পদ্ম ফোটান শুভেন্দু অধিকারী। আজ ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে তাঁর এই শপথ গ্রহণ খোদ কলকাতার বুকে বিজেপির আধিপত্যকে সিলমোহর দিল। আইনি নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রার্থী দুটি আসনে জিতলে একটি আসন তাঁকে ছেড়ে দিতে হয়। শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রাখায়, তাঁর নিজের গড় নন্দীগ্রাম আসনটি এখন শূন্য হচ্ছে। তবে মেদিনীপুরের মাটির সাথে তাঁর নাড়ির টান আলগা হচ্ছে না।
দল সূত্রে খবর, নন্দীগ্রামে এমন এক নতুন ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করা হবে যিনি শুভেন্দুবাবুর ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করবেন এবং সেখানে তৃণমূলকে চিরতরে উপড়ে ফেলবেন।নিয়ম মেনে আগামী ৬ মাসের মধ্যে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী নিজে দাঁড়িয়ে থেকে নন্দীগ্রামে বিজেপিকে ফের রেকর্ড ভোটে জেতানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন।
কলকাতার ভবানীপুরকে নিজের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আজ স্পষ্ট বার্তা দিলেন—মেদিনীপুর তো তাঁর নিজের ঘর, এবার খোদ কলকাতার বুক থেকেই তিনি গোটা পশ্চিমবঙ্গ শাসন করবেন এবং তিলোত্তমাকে সিন্ডিকেট রাজ থেকে মুক্ত করবেন।
