Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভবানীপুরের রণক্ষেত্রে শুভেন্দুর বিজয়-শপথ: ২৫ হাজারি ব্যবধানে ঘাসফুল উপড়ানোর অঙ্গীকার!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বসন্তের তপ্ত দ্বিপ্রহরে আজ তিলোত্তমার হৃৎপিণ্ড ভবানীপুর সাক্ষী থাকলো এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক উন্মাদনার। ঘড়ির কাঁটা যখন দুপুর ছুঁইছুঁই, ঠিক তখনই চক্রবেড়িয়া রোডে পা রাখলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। নিছক কোনো নির্বাচনী প্রচার নয়, বরং এক সুপরিকল্পিত রণকৌশল নিয়ে আজ দক্ষিণ কলকাতার এই হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রে অবতীর্ণ হলেন তিনি। নিজের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের পর এক বর্ণাঢ্য মিছিলে পা মিলিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, ভবানীপুরের দুর্গ এবার পতনের অপেক্ষায়। তাঁর অমোঘ ঘোষণা— “আজ সব দেখে নিলাম, লড়াই এখানে একপাক্ষিক। মিনিমাম ২৫,০০০ ভোটের ব্যবধানে জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা।”

বলা বাহুল্য, শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘২৫ হাজারি’ দাবির নেপথ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সাম্প্রতিক ভোটার তালিকার রদবদল। সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধনের পর ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪১,০৬৮ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিপুল সংখ্যক ভোটার হ্রাস শাসক দলের প্রথাগত ভোটব্যাংকে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে। শুভেন্দু আজ স্পষ্ট করেছেন যে, এই নতুন সমীকরণই বিজেপির জয়ের পথ প্রশস্ত করবে। ভবানীপুরে শিখ, মারওয়াড়ি এবং অবাঙালি ভোটারদের একটি বড় অংশ রয়েছে। শুভেন্দুর রণকৌশল হলো, হিন্দু ভোটের সংহতি বাড়ানো। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, জয় নিশ্চিত করতে হিন্দু ভোটের হার ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮০ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে। আজ শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর জনসংযোগ সেই ইঙ্গিতই বহন করছে।

আজকের সফরে শুভেন্দুকে দেখা গিয়েছে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে। প্রচারের মাঝেই তিনি আচমকা পৌঁছে যান ভবানীপুর থানায়। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের সরাসরি সতর্ক করে তিনি বলেন, “ভোটের দিন যেন কোনো পক্ষপাতিত্ব না হয়। মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।” হকার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভয় দিয়ে তিনি জানান, বিজেপির জমানায় তাঁদের আর ‘তোলাবাজি’র শিকার হতে হবে না। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ভবানীপুর তাঁর নিজের ঘর। ২০২১-এর উপনির্বাচনে তিনি এখান থেকে প্রায় ৫৮,৮৩৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।

তবে শুভেন্দুর দাবি, নন্দীগ্রামের মতই ভবানীপুরেও ‘মাননীয়া’কে হারের স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তৃণমূলের তরফে ইতিমধ্যেই দেওয়াল লিখনে শুভেন্দুকে ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ এপ্রিল ভবানীপুরের ভাগ্য নির্ধারিত হবে ইভিএমে। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার দিন স্পষ্ট হয়ে যাবে, শুভেন্দু অধিকারীর এই আত্মবিশ্বাসী হুঙ্কার বাস্তবে রূপ পায়, নাকি মমতার দুর্ভেদ্য দুর্গ অটুট থাকে। তবে আজকের প্রচারের পর এ কথা নিশ্চিত যে, ভবানীপুরের লড়াই এবার কেবল একটি আসনের লড়াই নয়, বরং তা বাংলার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Exit mobile version