Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

রক্ত কেলেঙ্কারিতে হুলুস্থুল! লাইসেন্স বাতিল হতেই উধাও ভবানীপুরের ব্লাড ব্যাঙ্কের ২ শীর্ষ কর্তা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ১০০ কোটি টাকারও বেশি অঙ্কের প্লাজমা ও রক্ত পাচার কেলেঙ্কারির তদন্তে নামতেই এবার চরম নাটকীয় মোড়। বেআইনিভাবে ভিন রাজ্যে রক্ত এবং প্লাজমা পাচারের অভিযোগে লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে ভবানীপুরের ‘হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাঙ্ক’-এর। আর ড্রাগ কন্ট্রোল এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের এই কড়া পদক্ষেপের পরই রাতারাতি এলাকা ছেড়ে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছেন ওই ব্লাড ব্যাঙ্কের দুই প্রভাবশালী প্রধান কর্তা।সূত্রের খবর, গ্রেফতারি এড়াতে অন্তর্বর্তী জামিন নিয়ে ইতিমধ্যেই গা ঢাকা দিয়েছেন ওই দুই আধিকারিক। এমনকি তারা যাতে কোনোভাবেই দেশের বাইরে বা বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, তার জন্য কড়া নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসন। রাজ্যের বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন।

তদন্তে নেমে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানতে পেরেছে, সাধারণ মানুষের দান করা রক্ত ও প্লাজমা মোটা টাকার বিনিময়ে ভিন রাজ্যে বিক্রি করে দেওয়া হতো। এমনকি কিছু জায়গায় রক্তদাতাদের প্রেশার কুকার, মিক্সার গ্রাইন্ডার বা ক্যাশ ভাউচারের মতো দামি উপহারের প্রলোভন দেখিয়ে ক্যাম্প করা হতো। এরপর নিয়মবহির্ভূতভাবে দাতাদের শরীর থেকে অতিরিক্ত ৫০০ এমএল পর্যন্ত রক্ত টেনে নেওয়া হতো, যাতে তা থেকে মহামূল্যবান ‘ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা’ (FFP) বের করে কোটি কোটি টাকায় পাচার করা যায়। প্রাথমিক অনুমানে জানা গেছে, শুধুমাত্র প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেই প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার প্লাজমা বেআইনিভাবে পাঠানো হয়েছে।

১ আগস্ট থেকে রাজ্যের মোট ১১টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের ওপর নতুন করে রক্তদান শিবির করার ক্ষেত্রে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল স্বাস্থ্য ভবন। তবে গত ২২ জুলাই কেন্দ্রীয় লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ (CDSCO) এবং রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের যৌথ পরিদর্শনে ভবানীপুরের হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাঙ্কে মারাত্মক পরিকাঠামোগত ত্রুটি ও কারচুপি ধরা পড়ে। এর পরেই স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল (SBTC)-এর সুপারিশে ওই ব্লাড ব্যাঙ্কের সমস্ত লাইসেন্স ও অপারেশন সম্পূর্ণ বাতিল করে সিল করে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই চক্রের শিকড় অত্যন্ত গভীরে। অভিযুক্ত দুই কর্তা জামিন নিয়ে আইনি ফাঁক গলে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করতে পারেন বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকাগুলিতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই চক্রের কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

Exit mobile version